সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: সাদা-কালো বলে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ আর সাদা-কালো ঘুঁটিতে ৬৪ খোপের যুদ্ধ মিশেছে এই মহানগরে। কারণ রুশ কানেশন৷ আসলে সুদূর ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে শুরু হতে চলা ফুটবল বিশ্বকাপের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েছেন কলকাতার আলেখইন চেজ ক্লাবের দাবাড়ুরা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির মতো ফুটবলের শক্তিশালী দলের মাঝে তাঁদের সমর্থন রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গেই। চাইছেন রাশিয়ার সাফল্য।

ফুটবল ও দাবার মাধ্যমে রাশিয়ার বিখ্যাত দাবাড়ু আলেখাইনের নামাঙ্কিত দাবা ক্লাবের দাবাড়ুরা কোথাও খুঁজে পান রাশিয়ার মানুষের সাম্য, ঐক্যের মানসিকতাকে। তাঁদের খেটে খাওয়ার মানসিকতাকে। তাই মেসি, রোনাল্ডোর মতো বড় তারকাদের দেশের চেয়ে তাঁদের বেশি নজর রয়েছে লেভ ইয়াসিনের দেশের দলের দিকে।

যেমন শুভম ঘোষ। আলেখাইন চেজ ক্লাব বহু বছর ধরে এই শহরের খুদের দাবার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। অর্থনীতির ছাত্র শুভমের রাশিয়ার রাজনীতি থেকে সাহিত্য সব কিছুই ভীষণ পছন্দের। স্বাভাবিকভাবেই পছন্দের তালিকায় রয়েছেন কার্লসেন, কাসপারভের মতো বিখ্যাত দাবাড়ুরা। ফুটবল বিশ্বকাপে রাশিয়ার সাফল্য কামনা করে শুভম জানান “রাশিয়ার মানুষরা খেটে খেতে পছন্দ করেন। ওঁদের সংস্কৃতি, সাহিত্য বলে ঐক্যের কথা। সাম্যবাদের কথা।” সে আরও জানান, “আমরা এমন একটা সংস্থায় দাবা শিখছি যা পুরোটাই রাশিয়া মনোভাবাপন্ন। তাই দাবায় রাশিয়ান খেলোয়াড়দের ভক্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে চাইব রাশিয়া ভালো কিছু করে দেখাক।”

ক্লাবে গত ৩৫ বছর ধরে দাবা শেখাচ্ছেন সংস্থার প্রবীণতম কোচ অভিজিৎ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “এই ক্লাবের অনেক কিছুর সঙ্গে আমি জড়িত। রাশিয়ান সংস্কৃতি কী তা এই ক্লাবে এসে দেখেছি।” লেভ ইয়াসিনের ভক্ত অভিজিৎ সরকারের কথায়, “রাশিয়ার ফুটবল বলতে আমার কাছে লেভ ইয়েসিন। তারপরে আর মনে রাখার মতো কাউকে খুঁজে পাইনা। তবে এই ক্লাবের সঙ্গে থেকে বুঝেছি রাশিয়ায় ফুটবলের গুরুত্ব। স্পেনের পাশাপাশি আমি রাশিয়ার সাফল্য কামনা করব।” কোচ হারাধন চক্রবর্তী বলেন, “রাশিয়ার কমিউনিজমের ধারনা খুব পছন্দের। লিও টলস্টয়, ম্যাক্সিম গোর্কির লেখা পড়েছি, যা আমাকে অনেকটা অনুপ্রাণিত করেছে। দেশের মাটিতে রাশিয়ার ফুটবল দল কতটা ভালো করবে তা বলা মুশকিল। তবে ওদের শিল্প, সংস্কৃতির মতোই বিশ্বকাপ ফুটবলেও ওদের সাফল্য কামনা করি।”

সংস্থার দাবা ক্ষুদে দাবাড়ু শ্রেয়স, শ্রেয়ণ, আদিত্যদের অবশ্য রাশিয়ার ফুটবল সম্বন্ধে তেমন ধারনা নেই। তারা শুধু জানে বিশ্বের সবথেকে বড় দেশে এবারে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধের আসর বসছে। যেখানে মাঠ মাতাবেন মেসি, নেইমাররা। লেভ ইয়েসিন তাঁদের কাছে ‘অতীত’। সেখানে বর্তমান তুড়ি মেরে ওড়ায় প্রাক্তন কিংবদন্তিকে।

বৃহস্পতিবার রাজধানী মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়াম রাশিয়া-সৌদি আরব ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের বোধন৷ ৩২ দলের ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে মেসি-রোনাল্ডো লড়াই করবেন টেলস্টার নামক বল দিয়ে৷ ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরল এই টেলস্টার বল৷