সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : চিনাদের মন শুদ্ধ করতে অভিনব কাজ করল শহরের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। লাল চিনের পতাকা করালেন স্যানিটাইজ। দাবি, যেমন হাতে স্যানিটাইজার দিলে হাত পরিস্কার হয় তেমন ওদের পতাকায় স্যানিটাইজার দিলে ওদের মন শুদ্ধ হতে পারে।

অশান্তির বদলে শান্তির বার্তা তৈরি হতে পারে তাদের মনে। যেহেতু বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির বার্তা দেয়। তাই এই পদ্ধতিতে চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এমনই এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেন টালিগঞ্জ বুদ্ধ সম্বোধীর বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। পাশাপাশি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। লাদাখে চিনা সেনার হাতে শহীদ সৈনিকদের আত্মার শান্তি প্রার্থনা করা হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তরফে।

লাদাখ, মানচিত্রের মূল নজরে। সেখানেই বৌদ্ধরা থাকেন বেশি সংখ্যায়। কী অবস্থান তাদের। চীন না ভারত কাকে সমর্থন করেন তাঁরা? উত্তর দিলেন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। প্রধানমন্ত্রীর কথায় বৌদ্ধরাই নাকি দেশের শান্তি ফেরাতে পারে। তাইদেশের শান্তি ফেরাতে বুদ্ধ কীর্তন সংঘদান সর্বধর্ম সম্প্রীতি সভারও আয়োজন করলেন ভিক্ষুরা।

প্রসঙ্গত, আপাতত হটস্প্রিং ও গ্রোগরা থেকে থেকে সরেছে চিনা সেনা। গালওয়ান উপত্যকার যে জায়গায় তারা এতদিন ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল তা থেকে ১-১.৫ কিলোমিটার সরে গিয়েছে চিন। পিএলএ তাদের তাঁবু তুলে নিয়েছে, সরেছে সামরিক যানও। পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে উত্তেজনা কম করতে এক সপ্তাহ আগে আগে চিন ও ভারতের কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়। তার পর ৬ জুলাই চিনা সেনার অবস্থান বদলের খবর পাওয়া যায়।

ওই বৈঠকে স্থির হয় ধাপে ধাপে সীমান্তে উত্তেজনা কম করার পথে হাঁটে দুই দেশ। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর মেলে, চিনা সেনা তাদের তাঁবু, যানবাহন ও সেনা গালওয়ান থেকে ১-২ কিলোমিটার পিছিয়ে নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ১-৪ ভারতের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে ফিঙ্গার ৪-৮ চিনা সেনা দখল করেছে। সেখানে থেকে তারা সরবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুনের বৈঠকে ভারত সাফ জানিয়ে দেয় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে সব বিবাদিত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে চিনকে। পাশাপাশি, গত এপ্রিলের অবস্থান বজায় রাখতে হবে। প্য়াংগং লেক, গালওয়ান উপত্যকা থেকে সরতে হবে চিনকে।

তবুও প্রশ্ন থাকছে যে চিন লাদাখের গালওয়ান, হট স্প্রিং এবং গোগড়া থেকে সত্যিই কী পিছু হটছে? আসলে ১৯৬২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত চিনের আচরণের যা ইতিহাস রয়েছে তার হিসেবে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চিনকে বিশ্বাস করা কঠিন।

চিন বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের আধিপত্য দাখিল করতে। ঘটনা হল অনেকেই আবার বলছেন, গালওয়ান নদীর কাছে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে পিছু হটার কারণ আসলে ওই নদীতে ক্রমাগত জলস্তর বৃদ্ধি হওয়া। কারণ চিনের সেনাবাহিনী সেখান থেকে পিছিয়ে না গেলে তারা বন্যার কবলে পড়বে। তাই চিন ভারতের চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পিছু হটেছে একথা বিশ্বাস করা কঠিন হচ্ছে অনেকের কাছেই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ