কলকাতা: দূষণে রাজধানীর থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই ‘সিটি অফ জয়’। বুধবার রাতে মহানগরের আকাশে বায়ু দূষণের পরিমানে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৩০০। যা চলতি মাসের সব থেকে বেশী পরিমানে বায়ু দূষণের সূচককে নির্দেশ করেছে। কলকাতার বায়ুদূষণ ৩০০ তে নেমে যাওয়ায় মহানগরের এই অবস্থাকে খুব খারাপ বলেছে ডব্লিউবিপিসিবি।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রক পর্ষদ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১১’টা পর্যন্ত উইলিয়াম অটোমেটেড এয়ার মনিটরিং ষ্টেশনে কলকাতার আকাশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৩৪৩। যা এই মরশুমের সর্বোচ্চ বায়ুদূষণ। এবং এই ইনডেক্সকে খুবই খারাপ বলে জানিয়েছে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রক পর্ষদ।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ০ থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে সেটিকে বলা যায় ভালো। ৫১ থেকে ১০০ সন্তোষ জনক, ১০১ থেকে ২০০ হল মাঝারি এবং ২০১ থেকে ৩০০ খারাপ, ৩০১ থেকে ৪০০ অতিখারাপ ও ৪০১ থেকে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স যদি ৫০০তে পৌঁছয় তবে সেটিকে তীব্র বলা হয়। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫০০ ছাড়িয়ে গেলে তখন সেটিকে গুরুত্বর জরুরী অবস্থা বলে অভিহিত করা হয়।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জ এয়ার মনিটরিং ষ্টেশনের রেকর্ড অনুযায়ী বুধবার রাত ১১’টা পর্যন্ত কলকাতার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৩০০। এদিকে একই সময়ে আনন্দ বিহার ষ্টেশনের রেকর্ড অনুযায়ী কলকাতার বায়ু দূষণের ইনডেক্স ২৭৫ বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ইনডেক্সকেও খারাপ বলে জানিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রক পর্ষদ।

এদিকে রাজধানী দিল্লির মত কলকাতার দূষণ অতটা তীব্র না হলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি তরফে বিভিন্ন জরুরী পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, বায়ু দূষণে সব থেকে বেশী সমস্যা হয় বাচ্চাদের এবং বয়স্ক মানুষদের। এছাড়াও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও এই সময় তীব্র হয়।

ফলে সরকারি তরফে বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কলকাতা এবং হাওড়া জেলার ফুটপাথের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলিতে কাঠ এবং কয়লায় রান্না বন্ধ করার ব্যাপারে নির্দেশ দেবে। সঙ্গে সঙ্গে দূষণ সৃষ্টিকারী পনেরো বছরের বেশী পুরনো গাড়িগুলি রাস্তায় চালানো বন্ধের ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ নেবে সরকার। এছাড়াও দূষণ সৃষ্টিকারী যেকোনো জিনিস বন্ধের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছে সরকার। অপেক্ষা একটাই কলকাতার দূষণ শেষপর্যন্ত কতটা কমবে।