স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া : মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই লোকসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। তার পরে পরেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের ভোট প্রচারে নামার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এবারই প্রথম এই রাজ্যে সাত দফায় ভোট হবে।

আগামী ১২ মে বাঁকুড়া জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্রের ২৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন ঘোষণানুযায়ী এই প্রথম এ রাজ্যে সাত দফা ভোট। এ প্রসঙ্গে কি বলছেন রাজনৈতিক দল গুলির বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্ব। তা জানতেই আমরা কথা বলেছিলাম তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।

 

বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি জয় চ্যাটার্জ্জী বলেন, ‘সাত দফা হোক বা ৪২ দফা নির্বাচনই হোক। সব দফা নির্বাচনের জন্যই আমরা তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তুত আছি। কারণ আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। এর আগে আমরা পাঁচ দফায় ভোট দেখেছি। যতো দফাতেই ভোট হোক আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্বাগত জানাচ্ছি। বিরোধীরা মাঠে, ময়দানে থাকে না’৷

তাঁর আরও দাবি বিগত নির্বাচনগুলির মতো এই নির্বাচনেও এ রাজ্যের ৪২ আসনেই মমতা ব্যানার্জ্জীকে মানুষ ‘আশীর্বাদ’ করবেন৷ সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি তাঁকে ‘গদ্দার’ ও ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, উনি যদি এবার বিজেপির প্রার্থী হন তাহলে মানুষ তার ‘জামানাত জব্দ’ করে এই গদ্দারির যোগ্য জবাব দেবেন।

 

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি ও গত ২০১৪ সালে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা দেখেছি মানুষ মনোনয়নপত্র পেশ করতেই পারেনি, ভোট দেওয়া তো দূর অস্ত। আর সেখানে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ভোটকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ বলেছেন দাবী করে এই বিজেপি নেতা বলেন, সন্ত্রাস ছাড়াই যাতে মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারেন, তাই সাতদফায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে কমিশন।

এই সাত দফার নির্বাচনকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে তিনি বলেন, এবার অত্যাধুনিক ব্যবস্থা সহ কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট হওয়ার কারণে তৃণমূলের পক্ষে ‘সন্ত্রাস করাটা কঠিন হবে’ বলেই তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি জনতাও এবার রুখে দাঁড়াবে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঐ ভোট তৃণমূল এবার ভুলে যাক। সদ্য দলে যোগ দেওয়া তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিজেপি গঙ্গা নদীর মতো। যে আসবে সেই পবিত্র হয়ে যাবে। যে আসবে তাকেই দলে ‘স্বাগত’ বলে তিনি জানান।

সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দলের প্রাক্তন বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অমিয় পাত্র ‘পাঁচ দফা কি সাত দফা এটা বড় কথা নয়’ মানুষ নির্ভয়ে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতে আমাদের পাঁচ দফা ভোটের অভিজ্ঞতা আছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যারাকে রেখে রাজ্যের পুলিশ আর সিভিক ভল্যান্টিয়াররা সেই সময় ‘ভোট করেছে’ বলে তিনি দাবী করেন।

এবারের ভোটেও মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা সেই আশঙ্কা করে অমিয় পাত্র বলেন, বাঁকুড়াতে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে তাদের পরিচালনা করবে এই জেলার পুলিশ। আর জেলা ও রাজ্যের পুলিশ একজনকেই চেনে। তার নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করে তিনি বলেন, তার ‘অঙ্গুলি হেলনেই’ যেমন রাজ্য পুলিশ চলবে, তেমনি কেন্দ্রীয় বাহিনীও পরিচালিত হবে বলে তিনি দাবী করেন।

বহুচর্চিত সিপিএম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাঁকুড়ার দুই আসনেই সিপিএম লড়বে। এখনো পর্যন্ত কংগ্রেস বা অন্য কোন দল এখানে এবিষয়ে দাবী জানায়নি।

 

কংগ্রেসের বাঁকুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক অরূপ ব্যানার্জ্জী বলেন, আমরা আগে এতো দফায় ভোট দেখিনি। এক দফা, দু’দফার পর পাঁচ দফা দেখলাম। এবারই প্রথম সাত দফা। এই সাত দফা ভোটকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে হয়তো দেখবো ৪২ আসনে ৪২ দফা ভোট হবে। এই বিষয়টা সাধারণ মানুষের কাছেও বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন একটা ‘রিপোর্টে’র ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উত্তর প্রদেশ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওখানে অনেক বেশী আসন, তবুও সাত দফাতেও ভোট। এরাজ্যে মাত্র ৪২ আসনে ভোট তবুও সাত দফা। তবে কি ভোটে বিশৃঙ্খলা আঁচ করেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মানুষ তা জানতে চাইছে বলে তিনি জানান। মানুষ নির্ভয়ে তার ভোট যাতে দিতে পারে তার ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়ে বলেন, গত পঞ্চায়েত ভোটৈর অভিজ্ঞতা এবার যাতে না হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়ার পাশাপাশি ভোটের আগে গ্রামে গ্রামে তাদের টহলদারির দাবী জানান তিনি। বাম-কংগ্রেস জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত ‘অফিসিয়ালি’ কোন খবর তাদের কাছে আসেনি।