প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: ট্রাইয়ের নয়া নিয়মে বাঙালির বিনোদনে বাজেটের চিন্তা এসেছিল৷ সেই নিয়মের মধ্যে থেকেই বাছাই করতে হয়ে পছন্দের চ্যানেললেন৷ সেই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি জলপাইগুড়ির বাসিন্দা সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণের মা বাসনা বর্মণের ক্ষেত্রে৷ তাঁকেও বাছাই করতে হয়েছে পছন্দের চ্যানেল৷ কিন্তু পছন্দের চ্যানেলের মধ্যে বাদ পড়ে গিয়েছে স্পোর্টস৷ তাই মঙ্গলবার এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে মেয়ের খেলা দেখতে পারেননি৷ জানতে পারেননি ভারতকে তাঁর মেয়ে স্বপ্না রুপা উপহার দিয়েছে৷

বাসনা বর্মণের সেই খুশির খবর পৌঁছে দিলেন কলকাতা ২৪x৭-এর প্রতিনিধি৷ তিনি সরাসরি পৌঁছে গেলেন স্বপ্নার বাড়িতে৷ মেয়ের এই খুশির খবর শুনে আত্মহারা বাবা মা৷ খুশি পরিবারের বাকি সদস্য৷ এরপর আমদের প্রতিনিধি ফোনে কথা বলায় স্বপ্নার প্রাক্তন কোচ উজ্জ্বল দাস চৌধুরীর সঙ্গে। উজ্জ্বল বাবুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে দোহা থেকে ফোন আসে স্বপ্নার৷ এরপরে দীর্ঘক্ষণ চলে মা ও মেয়ের ফোনালাপ।

স্বপ্নার মা বাসনা দেবী জানান, খেলার আগে কয়েকবার মায়ের মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করে মেয়ের সাফল্য কামনা করি। স্বপ্নার শরীরে এতো চোটের মধ্যেও মা কালী আমার মেয়েকে এবার দ্বিতীয় করল। আমি তাতেই খুশি। এর আগে সোনা জয়ের পর গ্রামে রাস্তা পাকা হয়েছে। লাইটের পোলে আলো এসেছে। এবার নিশ্চয়ই এলাকা আরও উন্নত হবে।

এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে রূপো এনে দিলেন স্বপ্না বর্মন৷ মঙ্গলবার মরশুমের সেরা স্কোর ৫৯৯৩ করেন এই বঙ্গ কন্যা৷ তৃতীয় দিনে ভারতের ঝুলিতে তিনটি পদক আসে৷ ৪x৪০০ মিটার মিক্সড রিলেতে রূপো জেতে ভারত৷ তবে সোনা হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ স্বপ্না৷ তিনি বলেন, ‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি নয়৷ এদিন সকালে জ্যাভলিন থ্রোতে আমার পারফরম্যান্স আশাপ্রদ হয়নি৷ গোড়ালিতে চোট থাকায় প্রস্তুতি ভালো হয়নি৷’