সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: হারিয়ে যাচ্ছে শহরের অনেক পুরোনো গল্প। হারিয়ে যাচ্ছে শহরের বহু ঐতিহ্য। অন্যতম ট্রাম। বাতিল ট্রামের কামরা এখন হেরিটেজ লুক দেওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। তেমনই চেষ্টা করেছে শহরের প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনো আলিপুর চিড়িয়াখানা। ট্রামের বাতিল হয়ে যাওয়া কামরাটি এখনও ভালোভাবে সাজিয়ে ওঠা হয়নি চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষের কিন্তু তার সামনে শালপাতার স্টল বসিয়ে দিয়ে প্রাথমিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে।

এই সময়ে বহু মানুষ চিড়িয়াখানায় আসেন। বাঙালির অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়ার মাঝে থেকে গিয়েছে ক্রিসমাসে বেড়াতে বেরিয়ে চিড়িয়াখানার পিকনিক। মাঠে বসে খাওয়া দাওয়া এবং সারা দিনটা পশুশালাতেই কাটিয়ে দেওয়া। এর স্বাদ অন্যরকম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘বাইরে থেকে থার্মোকলের জিনিস না কিনে ভিতরেই দেওয়া হচ্ছে শালপাতা। মানুষ তাতে খাওয়া দাওয়া করে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছেন। এতে পরিবেশ রক্ষার কাজ হচ্ছে’।

অধিকর্তা আশীষকুমার সামন্ত বলেন , ‘আমরা সবসময়েই এই চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছি সঙ্গে শহরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ট্রামের একটি কামরাকে আমরা এখানে রেখেছি। ফুড কাউন্টার জাতীয় কাজে ব্যবহার করার ইচ্ছা রয়েছে।’ ট্রামের গায়ে বেশ কয়েকটি ব্যানার দেওয়া হয়েছে যা বন্যপ্রাণ রক্ষার বার্তা দিচ্ছে। ক্রিসমাসের সময়ে যেহেতু সবথেকে বেশি মানুষ আসেন তাই এই সময়েই ট্রামের কামরা রেখে ঐতিহ্যকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ১৮৭৩ সালে প্রথম আর্মেনিয়া ঘাট থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রথম ট্রাম চালু হয়। এই যাত্রা পথের দৈর্ঘ্য ছিল ৩.৯ কিলোমিটার (২.৪ মাইল)।

কিন্তু যাত্রীর অভাবে এই পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি নামে একটি লন্ডন ভিত্তিক কোম্পানি কলকাতায় ট্রাম পরিষেবা শুরু করে। প্রথম দিকে ঘোড়া টানা ট্রাম ব্যবহার করা হত। এই সময় ট্রাম কোম্পানিটির হাতে ১৭৭টি ট্রাম ও ১০০০ টি ঘোড়া ছিল। পরে স্টিম ইঞ্জিন ব্যবহৃত হত ট্রাম চালানোর জন্য। এই সময় ট্রাম কোম্পানির ১৯ মাইল ট্রাম লাইন ছিল।

১৯০০ সালের শুরুতে ১৪৩৫ এমএম (৪ ফুট ৮.৫ ইঞ্চি) স্ট্যান্ডার্ড গেজের ট্রাম লাইন চালু হয়। ১৯০২ সালে ট্রাম পরিষেবার বৈদ্যুতীকরন শুরু হয়; যেটি ছিল এশিয়ার প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম পরিষেবা। স্বাধীনতার কিছু পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতা ট্রাম কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে এটি ভারতের একমাত্র ট্রাম পরিসেবা।