সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : বাস কম চলছে। টালা থেকে টালিগঞ্জ এখন দূর বহু দূর মনে হচ্ছে। কিন্তু যদি বলা হয় এই কলকাতা থেকেই বাস ছাড়ত যার গন্তব্য ছিল সুদূর লন্ডন। না, কোনও মজা নয়, কোনও রাজনৈতিক মিম নয় একদম সত্যি ঘটনা। কলকাতা থেকে বাস যেত ইংল্যান্ডে।

প্রশ্ন উঠতে পারে তথ্যের। তাহলে জেনে নিন… একসময় যেমন এপাড়া ওপাড়া দিয়ে চলত মার্টিন ট্রেন তেমনই ১৯৬০-৬৯ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম রুটের ডবল ডেকার বাস ‘আলবার্ট’ ভারত এবং গ্রেট ব্রিটেন এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো।

এই বাসটি গ্রেট ব্রিটেন থেকে ভারতে ১৫ বার এমন কি লন্ডন থেকে সিডনি ৪ বার যাতায়াত করেছিল।ভিক্টোরিয়া কোচ স্টেশনের সামনে দাঁড়ানো এই বাসের ছবিই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মাধ্যমে।

লন্ডন থেকে কলকাতা যাতায়াতের নূন্যতম ভাড়া ছিল ৮৫ পাউন্ড আনুমানিক ভারতীয় মুদ্রাতে প্রায় ৮০০০ টাকা, যা তৎকালীন বাজারমূল্য অনুযায়ী যথেষ্ট ব্যয়বহুল। কোন পথ ধরে লন্ডন থেকে কলকাতা আসত বাস? জানা যাচ্ছে, প্রথমে লন্ডন থেকে জার্মানি, আস্ট্রিয়া বা প্যারিস হয়ে তারপর বেলগ্রেড, ইস্তানবুল, তুরস্ক, ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের হেরাত, কাবুল, পাকিস্তানের লাহোর হয়ে অমৃতসর থেকে দিল্লি হয়ে আসতো কলকাতায়।

প্রায় ২১ বছর সার্ভিসের পর একটি দুর্ঘটনায় বাসটি যাত্রীদের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরে। এরপরে এন্ডি স্টুয়ার্ট নামে এক ব্যক্তি নিজের ব্যবহারের জন্য বাসটি কিনে নেন এবং পাড়ি দেন আরও ১৬,০০০ কিলোমিটার।

সূত্রের খবর ‘ আলবার্ট’ এর প্রথম যাত্রা শুরু হয় সিডনির জেনারেল পোস্ট অফিস থেকে, মঙ্গলবার, ৮ ই অক্টোবর, ১৯৬৮ সালে। বাসটি ১৩২ দিন পর সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ লন্ডনে পৌঁছায়।

লন্ডন থেকে কলকাতা হয়ে সিডনি যাওয়ার জন্য বাৎসরিক একটি টাইম টেবিলের ব্যবস্থা করা ছিল,যা ‘আলবার্ট ট্যুর’ নামে পরিচিত ছিল। ভারতে মোট ৪টি জায়গায় আলবার্টের স্টপ ছিল, দিল্লি, আগ্রা, বারানসী এবং কলকাতা।

এই আন্ত রাষ্ট্রীয় বাসে যাত্রীদের সুবিধার্থে ছিল বিলাসবহুল আয়োজন। যাত্রীদের জন্য ছিল ভোজনশালা, লাইব্রেরী। প্রতি যাত্রীদের জন্য আলাদা শীততাপনিয়ন্ত্রিত কেবিনের ব্যবস্থাও ছিল এই আলবার্টে মজুত। দীর্ঘ যাত্রাপথে বাসটিকে কমপক্ষে ১৫০টি দেশের বর্ডার পার করে যেতে হতো। যাত্রাপথে সৌহার্দের প্রতীক হয়ে দেশ – দেশান্তরে পাড়ি দিত এই আলবার্ট।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ