নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: অবশেষে বামেদের দাবি মত জ্যোতি বসু সেন্টার ফর স্টাডিজ অ্যাণ্ড রিসার্চ তৈরি করার জন্য জমির অনুমোদন মিলল৷ প্ল্যান কার্যকরী হলে নিউটাউনে পাঁচ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে জ্যোতি বসু সেন্টার৷ ২০১০ সালেই এই জমির অনুমোদন পত্র তৈরি করেছিল তৎকালীন বাম সরকার৷

কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে৷ ক্ষমতায় আসে তৃণমূল সরকার৷ তারপরেই কোনও অনির্দিষ্ট কারণে জ্যোতি বসু সেন্টারের জন্য জমির অনুমোদন মেলেনি বলে অভিযোগ তোলে বামেরা৷ অবশেষে মিলেছে সেই ছাড়পত্র৷

সূত্রের খবর প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল ও নথি বের করতে হিডকোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ জমির অনুমোদন যাতে দ্রুত দেওয়া হয়, সেই নির্দেশিকাও এসেছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে৷ এর আগে, জ্যোতি বসু সেন্টার ফর স্টাডিজ এবং রিসার্চ -এর জমির দখলদারিত্ব চাইতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয় সিপিএম৷

আরও পড়ুন : অভিনেত্রী অরুণিমা ঘোষকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য, গ্রেফতার যুবক

সিপিএমের তিন নেতা – সুজন চক্রবর্তী, রবীন দেব এবং অশোক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান, টাকা দেওয়া সত্ত্বেও জমির পজেশন বা দখলদারি পাওয়া যায়নি৷ বরং নিউটাউনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিডকো সিপিএম-কে অন্য জমি দিতে চেয়েছে৷

সূত্রের খবর, বামেদের দাবি করা ওই জমিতে কিছু আইনী সমস্যা ছিল৷ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সময় চান মুখ্যমন্ত্রী৷ সিপিএমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নিউটাউনে হিডকো এই জমি বরাদ্দ করে৷ ২০১১ সালের ১২ মে সমস্ত টাকা হিডকো-কে দিয়ে দেওয়া হয়৷ কিন্তু, তারপরেও রাস্তার পাশে, ওই পাঁচ একর জমির দখলদারিত্ব পায়নি সিপিএম৷

সিপিএম সূত্রে খবর বাম সরকার ওই জমিতে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ব্যবহার করা নানা জিনিসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সেন্টার ও লাইব্রেরি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ ওই সেন্টারে তৈরি করার কথা ছিল একটি অডিটোরিয়াম, সেমিনার হল ও ওয়ার্কশপের স্থান৷ ৫ কোটি টাকা তৃণমূল সরকারকে হস্তান্তর করা হলেও জমি পাওয়া যায়নি৷

আরও পড়ুন : হালিশহর ও কাঁচরাপাড়ার পর ফের পুনর্দখল প্রক্রিয়ায় তৃণমূল

প্রসঙ্গত, নিউটাউনকে জ্যোতি বসু নগর নাম দিতে চেয়েছিল রাজ্যের বাম সরকার৷ সেই মতো নিউটাউনে হিডকো ভবনের মূল দ্বারের বাইরে ‘জ্যোতি বসু নগর’ লেখা প্রস্তরখণ্ড আটকানো হয়৷ কিন্তু কিছুদিন পরই ওই প্রস্তরখণ্ড খুলে ফেলাও হয়৷ নতুন রাজ্য সরকার দাবি করে, বাম সরকার নিউটাউনের নাম ‘জ্যোতি বসু নগর’ করার ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল৷ বিল বিধানসভায় পাশ হয়েছিল৷ বিলটির নাম ছিল, নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (অ্যামেন্টমেন্ট) বিল, ২০১০৷ পাঠানো হয় রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনের অনুমোদনের জন্য৷

এরমধ্যেই বামফ্রন্ট রাজারহাটকে জ্যোতি বসু নগর করা হবে বলে একটি অনুষ্ঠানও সেরে ফেলে৷ ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, আবাসন মন্ত্রী গৌতম দেব এবং সাংবাদিক এম জে আকবর৷