সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : সেক্স এখনও ওয়ার্ক নয়। সেক্স এখনও কাম, তবু কেন নয় কাম কাজ। এই দাবিতেই আরও একবার রাজপথে হাঁটবে যৌনকর্মীরা। কিন্তু হকের স্বীকৃতি মেলে না। সেই ২০০১ সাল থেকে আজ কুড়ি বছর হয়ে গেল ৩ মার্চ মানেই বিকেল বেলা রাজপথে জ্বলে ওঠে মশাল। রাস্তায় তাঁদের কাজের স্বীকৃতির দাবীতে পথে নামে ওঁরা কিন্তু না কাজের স্বীকৃতি মেলে না। ভোটার কার্ড আধার কার্ডের দাবী জানিয়ে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল সোনাগাছির যৌনকর্মীরা।

এনআরসি নিয়েও পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে যৌনকর্মীরা। এই দাবীগুলি কোথাও গিয়ে দেখা যায় আদতে যৌনকর্মীদের নিজেদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলার ভয়ের দাবি কখনও বা কর্মহীনতায় ভুগতে থাকা যৌনকর্মীদের নিজেদের পেশাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবী। কিন্তু স্বীকৃতি আর মেলে কই? বারবার আসে ৩ মার্চ। তেমনই এক বসন্ত বিকেলে আবারও যৌন পেশাকে স্বীকৃতির দাবী জানিয়ে পথে নেমেছে যৌনকর্মীরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যৌনকর্মীদের এই ডাক কি আদৌ কোনও সরকারের কানে পৌঁছায়? নাকি সরকারের কানে পৌঁছেও ইচ্ছাকৃত পৌঁছয় না ? কোনটা ? অথচ সরকারের পক্ষ থেকে নেতা নেত্রীদের সোনাগাছির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

ভারতের কলকাতা শহরে ২০০১ সালের তেসরা মার্চ কয়েক হাজার যৌন কর্মী তাদের অধিকার আদায়ে এক বিরল সমাবেশের আয়োজন করেন। সেটি ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় যৌন কর্মীদের নিজ উদ্যোগে এধরনের প্রথম আন্দোলন এবং ওই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে এর পর থেকে প্রতিবছর তেসরা মার্চ পালন করা হয় যৌন কর্মীদের অধিকার দিবস হিসাবে। যৌনকর্মীরা এই সমাবেশ আয়োজন করেছিলেন তাদের অধিকার এবং তাদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়গুলো তুলে ধরতে।

ভারতের একজন শীর্ষস্থানীয় এইচআইভি বিশেষজ্ঞ অনুষ্ঠানে ড: স্মরজিৎ জানা কলকাতার যৌনকর্মীদের সাহায্য করেছিলেন এই সমাবেশ আয়োজনে। ১৯৯০ থেকে ড: জানা কলকাতার যৌনকর্মীদের সাহায্য করে আসছেন। ১৯৯৫ সালে তার সহায়তা নিয়ে যৌনকর্মীরা গড়ে তোলেন দুর্বার মহিলা সম্বন্বয় কমিটি নামে একটি সংস্থা যাতে এর মাধ্যমে তারা তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারেন।

ফাইল ছবি

ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানে তিনি বলছিলেন বিশ্বের অনেক দেশেই এই পেশাকে সামাজিক এবং আইনগতভাবে মেনে নেওয়া হয় না। তাই যৌনকর্মীরা এই মেলার মাধ্যমে চেয়েছিলেন তাদের পেশার কথা, তাদের জীবনের কথা এবং সমাজের অন্য পেশার মানুষদের মত তাদেরও অধিকারকে যে মর্যাদা দেওয়া উচিত তা তুলে ধরতে। ওই সমাবেশের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মিলন মেলা’। সেই শুরু। তারপর থেকে লড়ে চলেছে সোনাগাছি। দাবী, কাম হোক কাম

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।