প্রতীকী ছবি

বারাকপুর: কলকাতার এক পানশালার সঙ্গীত শিল্পীর রহস্য মৃত্যুতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর থানা এলাকায় । মৃত ওই পানশালার সঙ্গীত শিল্পীর নাম দেবাশীষ দাস (৪৮)। মঙ্গলবার রাতে কলকাতার বউবাজার থানা এলাকার একটি পানশালায় অন্যান্য দিনের মতই গান গাইতে গিয়েছিলেন বরানগরের কুটিঘাট এলাকার বাসিন্দা পেশায় সঙ্গীত শিল্পী দেবাশীষ দাস ।

সেখানেই দেবাশীষের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় । এই ঘটনার পর ওই পানশালার মালিক তার পানশালার বাইরে দাঁড়ানো একটি ট্যাক্সি ভাড়া করে ওই সঙ্গীত শিল্পীর মৃতদেহ তার বরানগরের বাড়িতে পৌঁছে দিতে আসলে মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় ওই পানশালার মালিক শামসের খানকে । ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বরানগর থানার পুলিশ ।

মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বরানগরে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি গাড়িতে করে দেবাশীষ দাসের মৃতদেহ নিয়ে আসে শামসের খান নামে এক ব্যাক্তি । ওই ব্যাক্তি প্রথমে নিজের পরিচয় গোপন করে দ্রুত মৃতের বাড়িতে দেহ ফেলে রেখেই পালানোর চেষ্টা করছিল । কিন্তু সে সফল হয় নি । মৃতের পরিবারের সদস্যরা বারংবার শামসের খানের কাছে জানতে চায় বাড়ি থেকে সুস্থ শরীরে কলকাতায় গান গাইতে গিয়ে কিভাবে হঠাৎ তার মৃত্যু হল ? তখনই মৃতের পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে ওই পানশালার মালিক অসংলগ্ন কথা বলে মৃতের পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করতে চাইছে।

এরপরই মৃত দেবাশীষের পরিবারের সদস্যরা বরানগর থানার পুলিশকে খবর দেয় । পুলিশ এসে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং মৃতদেহ পৌঁছতে আসা পানশালার মালিক শামসের খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে এবং পরে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করে ।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ওই পানশালার মালিকের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে, ওই সঙ্গীত শিল্পী পানশালার বাথরুমে পড়ে গিয়ে হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে মারা যায় । কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এরপর কি হল ? পানশালার কর্মীরা বা অন্য কেউ কেন ওই সঙ্গীত শিল্পীর দেহ নিয়ে কোন সরকারি হাসপাতালে গেল না ? যদিও শামসের খানের দাবী সে কলকাতার এক হাসপাতালে ওই দেহ নিয়ে গিয়েছিল । সেখানেই সে জানতে পারে দেবাশীষের মৃত্যু হয়েছে । তবে ওই পানশালার মালিক পুলিশকে মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোন প্রমাণ বা ডাক্তার দেখানোর কোন প্রমাণ পুলিশকে দেখাতে পারেনি ।

মৃতের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, মৃতের মুখে ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল । অস্বাভাবিক কোন কারনে দেবাশীষের দাসের মৃত্যু হয়েছে । তারা এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বউবাজার ও বরানগর উভয় থানাতেই । যে ট্যাক্সি ভাড়া করে শামসের খান ওই সঙ্গীত শিল্পীর দেহ কলকাতা থেকে বরানগরে এনেছিল, ওই ট্যাক্সি চালককেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বয়ান নথিভুক্ত করেছে । তবে ওই ট্যাক্সি চালককে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রের খবর । জানা গেছে, কলকাতার পানশালায় গান গেয়ে সংসার চালাতেন সঙ্গীত শিল্পী দেবাশীষ দাস । তার পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন তিনি ।

বাড়িতে তার স্ত্রী ও ছোট একটি কন্যা সন্তান রয়েছে । ওই সঙ্গীত শিল্পীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বরানগর কুটিঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে । মৃতের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী জানিয়েছে । পুলিশ অবশ্য এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছে, ওই ব্যাক্তির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে জানা যাবে । তবে এই রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কলকাতার ওই পানশালার মালিককে জেরা করে প্রকৃত সত্য ঘটনা জানার চেষ্টা করছে । পুলিশ জানিয়েছে, ওই পানশালার অন্যান্য কর্মীদের ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ।