সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা : পেশায় অধ্যাপক, নেশা নতুন কিছু করার। ধীরে ধীরে বালির সঙ্গে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব। বাগুইআটির বাদল বাড়ৈ এখন sand artist (বালি শিল্পী) নামে খ্যাত দেশ-বিদেশে।

বালি আর কাঁচ ব্যবহার করে শিল্পী তার হাতের ছোঁয়ায় রূপ দিয়েছেন দেবী দুর্গার। যা এক নতুন সৃষ্টি।
তবে দীঘা বা পুরীর সমুদ্র তীরে বালি দিয়ে তৈরি যে শিল্প দেখা যায়, তা থেকে এটা আলাদা।

শুধু দেবী দুর্গার ছবিই নয়, বাদলবাবু হাতের জাদুতে ফুটিয়ে তুলেছেন কখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কখনও এপিজে আবদুল কালাম, কখনও ভালোবাসার ছবি। এতে মুগ্ধ দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ। কলকাতা রাজভবনে ২০১৮ সালে তার একটি প্রদর্শনী দেখে শিল্পীর কাজের প্রশংসা করেন তৎকালীন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বালি শিল্প বা স্যান্ড অ্যানিমেশনের জনপ্রিয়তা রয়েছে। ধীরে ধীরে ভারতবর্ষেও এই শিল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এমনটাই জানালেন শিল্পী। তবে ব্যতিক্রম পুরীর জগৎ বিখ্যাত বালি শিল্পী সুদর্শন পট্টনায়েক।

কলকাতার বালি শিল্পী বাদল বাড়ৈ কলকাতা 24×7 কে জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে আর্টের প্রতি আকর্ষণ ছিল। কিন্তু স্যান্ড আর্টিস হবেন এরকমটা ভাবেননি।

একদিন আবৃত্তিকার চন্দন ভট্টাচার্য নামে এক দাদা তাকে বলেন, তার একটি আবৃত্তির অনুষ্ঠানে একজন স্যান্ড আর্টিস প্রয়োজন। যিনি আবৃত্তির সঙ্গে সঙ্গে স্যান্ড আর্ট প্রদর্শন করবেন। অনেক খুঁজে না পেয়ে আমি নিজেই বাড়িতে বালি নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকি। দিনে অধ্যাপনা করা আর রাতে বাড়িতে ৪-৫ ঘন্টা বালির সঙ্গে খেলা করা। কোনও শিক্ষাগুরু ছাড়াই চলতে থাকে অধ্যাবসায়।

তিনি জানিয়েছেন স্যান্ড আর্ট নিয়ে বিদেশি কিছু শিল্পীদের কাজ দেখেছি। তারপর একদিন আমার কাজ দেখে চন্দন দা আমাকে বললেন তার আবৃত্তির অনুষ্ঠানে আমাকেই স্যান্ড আর্টিস হিসেবে কাজ করতে হবে। সেই ছিল পথ চলা শুরু। তারপর আর পিছন দিকে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে স্যান্ড আর্ট প্রদর্শন করে অনেক প্রশংসা পেয়েছেন। বিদেশ থেকে ডাক পেয়েছেন। কাতারের রাজধানী দোহাতে‌।

তবে প্রথম আউটডোর প্রোগ্রাম ছিল ত্রিপুরা। মুম্বই, দিল্লি, হায়দারাবাদ, ব্যাঙ্গালোর, রাজস্থানসহ অনেক জায়গায় গিয়েছেন। পেয়েছেন বহু পুরস্কার।

শারদোৎসবের সময় বাদল বাবুর বালির তৈরি অ্যানিমেশন দুর্গা নজর কাড়তে চলেছে।