ছবি-শশী ঘোষ

শিবশঙ্কর আদক, কলকাতা: রবিবাসরীয় যুবভারতীতে দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হতে বাকি তখনও প্রায় আধ ঘণ্টা৷ মাঠে ওয়ার্ম-আপ করতে নেমেছে মেক্সিকো ও ইরাকের ফুটবলাররা৷ দু’দলের ফুটবলারদের মাঠে স্বাগত জানাল কলকাতার দর্শক৷ ম্যাচের আগেই ‘মেক্সিকোর মেসি’কে নিয়ে ধ্বনি  উঠল গো টোরেস গো…৷

সম্প্রতি কনকাকাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে মেক্সিকো৷ সেই টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হয়েছেন জাইরো টোরেস৷ ফাইনালে গোল করতে না-পারলেও তাঁর খেলা মুগ্ধ করেছে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের৷ মন কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের৷ সিএফ অ্যাটলাস দলের এই খেলোয়াড়কেই মেক্সিকো ফুটবলের ভবিষ্যত বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷ সেই টোরেসের জন্যই এবার গলা ফাটালো কলকাতা৷ আসলে কলকতার ফুটবলপ্রেমীরা প্রকৃত প্রতিভার কদর করতে ভুল করেন না৷

মাঠের পরিবেশও ছিল এককথায় অসাধারণ৷ কলকাতায় আতিথিয়তা ও ফুটবলের ম্যাডনেসে মুগ্ধ বিদেশি সাংবাদিকরাও৷ এক ব্রিটিশ সাংবাদিক বলেন, যুবভারতীয় পরিবেশ,এখানকার ফুটপ্রেমীদের উচ্ছাস তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে৷ শুধু তাই নয়, তিনি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের রেষারেষির ইতিহাসও শুনেছেন৷ কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের দুই দলকে এভাবে সমর্থন করতে মাঠে আসবে তা ছিল কল্পনাতীত৷ আসলে বাঙালির ফুটবল প্রেম এমনই, দেশকালের সীমা ছাড়িয়ে পাড়ি দিয়েছে অন্য মহাদেশে৷

এদিন খেলা দেখতে যুবভারতীতে হাজির ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলাররা৷ কেভিন লোবো,অ্যালভিটো ডি’কুনহা ও রহিম নবি৷ ইংল্যান্ডের ‘ওয়ান্ডার কিড’ জর্ডন স্যাঞ্চোর খেলা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন৷

প্রথমবার শহরে বিশ্বকাপের খেলা দেখতে হাজির ছিলেন প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক৷ বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাঠমুখী তাঁরা৷ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখার স্মরণীয় মুহূর্ত হাতছাড়া করতে চাননি ফুটবলপ্রেমীরা৷ হোক না অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ৷

ফিফা’র এত বড় টুর্নামেন্ট তো দেশে এই প্রথম৷ তিলোতমায় ভারত ম্যাচ না-খেললেও দেশের ফুটবল মক্কায় চিলি, ইংল্যান্ড, মেক্সিকোর খেলা মিস করতে চান না শহরবাসী৷ প্রথমবার বিশ্বকাপ ফুটবলের আনন্দ চেটেপুটে নিতে চায় তৈরি শহর কলকাতা৷ ২৮ তারিখ ফাইনালের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে তিলোত্তমার৷

 

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প