কলকাতা: আজ থেকে তিন বছর আগে এমনই এক শীতের সন্ধ্যায় তিলোত্তমায় শেষবারের জন্য পা-রেখেছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র৷ ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ রবিবার রাতে বৃষ্টিভেজা কলকাতায় পা-রেখেছিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা৷ পরনে ছিল নেভি ব্লু রংয়ের টি-শার্ট ও মাথায় মিলিটারি ছাপের টুপিতে বেশ ঝকঝকে দেখাচ্ছিল ‘ফুটবলের রাজপুত্র’কে৷

৯ বছর পর তিলোত্তমা ফের দেখল ফুটবলের রাজপুত্রের৷ এদিন মারাদোনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে ফুটবল প্রেমীদের উপছে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো৷ তিন দিনের সফরে কলকাতায় ছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর স্রষ্টা৷ সেই একই রকম চিত্কারট৷ ‘দি -য়ে -গো ! দি -য়ে -গো !’

দমদম বিমানবন্দর থেকে বের হলেছিলেন রাত সাতটা পঁয়তাল্লিশ নাগাদ৷ ২৩ বছরের বান্ধবী রোসিও অলিবাকে সঙ্গে নিয়ে ‘পাঁচ-এ ’ নম্বর গেট দিয়ে বাইরে আসতেই তাঁর ফ্যানেদের ‘দিয়েগো -দিয়েগো ’ চিত্কার৷ হাত নাড়তে-নাড়তে বাইরে এসে গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়ে ফ্যানেদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করেছিলেন মারাদোনা৷ তারপর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে আকাশে ছুড়ে দিয়েছিলেন হাত৷

সেদিন বিমানবন্দরে কোনও কথা না-বললেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই শহর তাঁর ভীষণ চেনা৷ ফেসবুক বার্তায় তিনি বলেছিলেন , ‘কলকাতার ফ্যানেরা অসাধারণ৷ এখানে আগে এসেছি৷ অনেক স্মৃতি রয়েছে৷ এটা আমার কাছে বিশেষ সফর৷ এই শহর, এই দেশ ফুটবল পাগল৷ এখানে নতুন প্রজন্মের ফুটবল ভক্তদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি মুখিয়ে রয়েছি৷’

পরের দিন অর্থাৎ সোমবার দুপুরে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্তাইন তারকা৷ সন্ধ্যায় রাজারহাটে ভারতের প্রথম স্পোর্টস মিউজিয়ামের এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন তিনি৷ মঙ্গলবার বারাসতে মূল আকর্ষণও তাঁকে ঘিরেই৷ বারাসতে স্পনসর সংস্থার পক্ষ থেকে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে৷

সেই ম্যাচে ফুটবলের রাজপুত্রেকে বল পায়ে নামতে দেখা গিয়েছিল৷ দিয়েগোর বিপরীতে ছিলেন মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়৷ ‘দাদা বনাম দিয়েগো’র প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ছিল চরমে৷ এর আগে কলকাতায় মারাদোনা এলেও ফুটবল পায়ে খেলতে দেখা যায়নি তাঁকে৷

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে গভীর রাতেও মারাদোনাকে নিয়ে যে আবেগের বিস্ফোরণ দেখেছিল শহর কলকাতা৷ সেবার রাত সাড়ে বারোটাতে বিমানবন্দরে ছিলেন হাজার পাঁচেকের বেশি মানুষ৷ রাস্তায় মশাল হাতে মারাদোনার সম্মানে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা৷ যা দেখে বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর স্রষ্টা৷ তিলোত্তমার অনেক স্মৃতি বুকে নিয়েই বুধবার চিরনিদ্রায় চলে যান দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।