কলকাতা : বামেদের ১১ টি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দেশ জুড়ে বনধের প্রভাব পড়ল না শহর কলকাতায়। শুক্রবার সকাল থেকেই যান চলাচল ছিল ছিল একদমই স্বাভাবিক । পথে ট্যাক্সি থেকে বাস, অটো সমান তালে চলাচল করছে। যাত্রীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।  বনধকে উপেক্ষা করেই অন্যন্য দিনের মতো অফিসযাত্রীরা বেরিয়ে পড়েছেন রাস্তায়। অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি কলকাতা বিমান বন্দরে আগত যাত্রীদেরও। অন্যন্য বন্ধে অনেক সময় ট্যাক্সি বা অন্য কোন গাড়ি পেতে সমস্যা হলেও এদিন সে সব কিছুই চোখে পড়েনি।

বনধের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহর জুড়ে ৩৫৭টি পুলিশ পিকেট করা হয়। সরকারি কর্মীদের জন্যেও স্পেশ্যাল আয়োজন ছিল নবান্নে। রাত্রে অনেকেই থেকে যান অফিসে। তাঁদের জন্য খাওয়া দাওয়ার বিপুল পরিমান ব্যবস্থা করে রাজ্য সরকার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভ্যাটিকেন সিটি উড়ে গেলেন মাদারের সেন্টহুড প্রাপ্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। কলকাতা বিমান বন্দর থেকে বিমান ধরবার পূর্বে তিনি জানিয়ে গেলেন বনধে শহরকে সচল রাখবার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। পরিস্থিতির সমস্ত খবর তিনি নিয়মিত রাখবেন বলেও জানান। রাজ্যের তথ্য ও প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু আবার একধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। বনধকে উপেক্ষা করে যেসব যাত্রী বা বাস, অটো চালকরা রাস্তায় বেড়িয়েছেন তাঁদের গোলাপ ফুল দিয়ে ধব্যবাদ জানিয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া দেশ জুড়ে ডাকা শ্রমিক সংগঠনের বন্ধের প্রভাব পড়েনি কলকাতায়। একমাত্র যাদবপুরে বন্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে বেরোয় বাম তৃনমূলের মিছিল। বনধের কোন প্রভাব পড়েনি ব্যরাকপুর থেকে দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলেও। তবে শহরের বাইরে রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় অশান্তির সৃষ্টি হয়। কোচবিহারে একটি বাসের ওপর হামলা চালায় বন্ধকারীরা ও চেঙ্গাইলের জুটমিলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় কর্মীদের। বনধকে কেন্দ্র করতে মধ্যমগ্রামে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃনমূল ও বাম সমর্থকরা।

সবমিলিয়ে শহরের বাইরের এইসব ঘটনা ছাড়া এখনও পর্যন্ত একদমই চেনা ছন্দেই দৌড়চ্ছে শহর কলকাতা। বেলা বাড়লে হয়তো আরও পরিস্কার হবে তিলোত্তমার বনধ চিত্র।