কলকাতা: লকডাউনে রোজগার বন্ধ৷ নিজেদের খাবারের পাশাপাশি অবলা প্রাণীদের খাবার জোগাড় করতে পারছিলেন না মালিকরা৷ জানতে পেরে এগিয়ে এলো কলকাতা মাউন্টেড পুলিশ৷ আরও একবার পাশে থেকে মানবতার নজির গড়ল কলকাতা পুলিশ৷

লালবাজার তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, লকডাউনের মধ্যে বেশ বিপদেই পড়েছিলেন শহরের সহিস ও ঘোড়ার মালিকরা। এঁদের অধিকাংশেরই অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী নয়। ময়দান ও ভিক্টোরিয়া-সংলগ্ন এলাকায় ঘোড়ার পিঠে পর্যটকদের চাপিয়েই রোজগার। এখন সেই রোজগার বন্ধ। ফলে ঘোড়ার খাবার জোগাড় করাই অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। বার্লি, গমের খোসা ও আরও নানারকমের খাদ্যশস্য মিশিয়ে তৈরি হয় ঘোড়ার খাবার। অবলা প্রাণীগুলির অনাহারে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছিল রোজ।

এই অবস্থায় রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয়ে ময়দান এবং হেস্টিংস মাজার এলাকায় ৪১ জন দরিদ্র ঘোড়ার মালিককে প্রায় ১৫০টি ঘোড়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিল কলকাতা মাউন্টেড পুলিশের টিম। এরই পাশাপাশি খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শহরের রাস্তায় এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়ানো আরও বেশ কয়েকটি ঘোড়ার কাছেও। শুধু মানুষ নয়,অবলা প্রাণীদের পাশেও রয়েছে কলকাতা পুলিশ৷

এর আগে দুঃস্থ-দরিদ্র এবং ফুটপাথবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুলিশ৷ পাশাপাশি লকডাউনের মধ্যে কলকাতার দিন-আনা দিন-খাওয়া মানুষের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়িয়েছে শহরের থানাগুলি৷ কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে একটি খাদ্য সরবরাহকারী গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই গাড়িতে থাকছে রান্না করা খাবার, অন্যান্য পুষ্টিকর শুকনো খাবার-সহ রেশনের কম্বো প্যাকেট। এই খাবার ও রেশনের প্যাকেট নিয়ে গাড়িটি পৌঁছে যাচ্ছে কলকাতার দুঃস্থ-দরিদ্র এবং ফুটপাথবাসী মানুষদের কাছে। শহরের কোনও প্রান্তে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকেন, সেই চেষ্টাই করছে কলকাতা পুলিশ৷

গত ২৫ মার্চ দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণার চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই শহরের প্রতিটি থানায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি হয়েছিল এলাকাভিত্তিক তালিকা। যে তালিকায় ছিলেন দিন-আনা দিন-খাওয়া মানুষেরা, দুঃস্থ-দরিদ্ররা, ফুটপাথবাসীরা, এবং অবশ্যই বয়স্ক সহনাগরিকরা। ওঁদের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে কলকাতা পুলিশের।

সম্প্রতি, এন্টালি এবং গড়িয়াহাট, রবীন্দ্র সরোবর থানা এলাকায় গৃহবন্দি সহনাগরিকদের একঘেয়েমি কাটাতে এবং লকডাউনে জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে না বেরনোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গান গাইতে দেখা গিয়েছে কলকাতা পুলিশকে। গানের তালিকায় বেলা বোস থেকে শুরু করে সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-গান রয়েছে। গান গেয়েছেন কলকাতা পুলিশের অফিসারকর্মীরা। লকডাউনের জেরে অনুষ্ঠিত হতে পারছে না রক্তদান শিবির। রক্তদাতারাও বাধ্য হয়ে ঘরবন্দি। ফলে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে দেখা দিয়েছে রক্তের অভাব। সেই কথাও ভেবেছে কলকাতা পুলিশ। অভাব কিছুটা পূরণের উদ্দেশ্যে এপ্রিলের ৩০ তারিখ পর্যন্ত( রবিবার বাদ দিয়ে) রোজ সন্ধেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রক্তদান করছেন কলকাতা পুলিশের সর্বস্তরের কর্মীরা। প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন রক্ত দিচ্ছেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও