সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : লকডাউনের সময়ে সর্বদা সজাগ কলকাতা পুলিশ। গলি থেকে বড় রাস্তা সতন্দ্র সাদা পোশাক। যতটা সম্ভব জমায়েত না হতে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণের সেবা করতে গিয়ে জনতার কাছেই হেনস্থার শিকার হয়েছে। তবু নিজেদের কাজে অটল তারা। শহরে যেহেতু এখন রক্তদান সম্ভব নয় তাই কলকাতা পুলিশ নিজেই এগিয়ে এল রক্তের অভাব মেটাতে।

কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ‘লকডাউনের জেরে অনুষ্ঠিত হতে পারছে না রক্তদান শিবির। রক্তদাতারাও বাধ্যত ঘরবন্দি। ফলে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে দেখা দিয়েছে রক্তের অভাব। সেই অভাব কিছুটা পূরণের উদ্দেশ্যে আজ থেকে এপ্রিলের ৩০ তারিখ পর্যন্ত( রবিবার বাদ দিয়ে) রোজ সন্ধেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রক্তদান করবেন কলকাতা পুলিশের সর্বস্তরের কর্মীরা। প্রতিদিন অন্তত ৫০ জন। পাশে আছি সাধ্যমতো।’

প্রসঙ্গত, ২৯ মার্চ শহরে গুরুতর অসুস্থ প্রৌঢ়ার প্রাণ বাঁচান বৌবাজার থানার অ্যাডিশনাল অফিসার-ইন-চার্জ। ওইদিন বৌবাজার থানায় যোগাযোগ করেন হালদার লেনের বাসিন্দা শ্রীমতী কণিকা মজুমদার। কণিকা দেবী জানান, তাঁর ননদ কৃষ্ণা গুপ্ত গুরুতর অসুস্থতাজনিত রক্তপাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর দ্রুত এ-পজিটিভ (A+) ব্লাড গ্রুপের রক্ত প্রয়োজন। অবস্থা গুরুতর। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, রক্তের অভাবের কারণে তারা এই মুহূর্তে এ-পজিটিভ রক্তের ব্যবস্থা করতে পারবে না। কণিকা দেবীর বয়স ৮০ পেরিয়েছে। পাশে সাহায্য করার মতো তেমন কেউ নেই। লকডাউন পরিস্থিতিতে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি সাহায্য চেয়ে ফোন করেন বৌবাজার থানায়, যদি মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করে দেওয়া যায়। রক্তদাতার কার্ড নিয়ে দ্রুত কণিকা দেবীর বাড়িতে পৌঁছে যান বৌবাজার থানার সার্জেন্ট সৌরভ দাস। সেখান থেকে কণিকা দেবীর পরিচারিকা একজন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে চলে আসেন মানিকতলা সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্কে। কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কেও তখন যথেষ্ট পরিমাণে এ-পজিটিভ ব্লাড গ্রুপের রক্ত মজুত ছিল না। এদিকে কৃষ্ণা দেবীর অবস্থা সংকটজনক। দ্রুত রক্ত না পাওয়া গেলে প্রাণসংশয় হতে পারে। অন্য কোনও উপায় নেই দেখে এগিয়ে আসেন বৌবাজার থানার অ্যাডিশনাল অফিসার-ইন-চার্জ সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জি। তাঁর ব্লাড গ্রুপও এ-পজিটিভ ছিল। তিনি নিজে মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে রক্তদান করেন। সেই রক্ত যথাসময়েই পৌঁছে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে। সংকট থেকে আপাত মুক্ত হন কৃষ্ণা গুপ্ত নামের ওই বৃদ্ধা। সম্ভবত এই ঘটনার পরেই কলকাতা পুলিশের এই সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও