সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: সারাবিশ্বে টম ক্রজের মিশন ইমপসিবল৷ সেই টম ক্রুজের মিশন কিন্তু সম্ভব হল কলকাতাতেই৷ ট্রাফিক নিয়মেই লুকিয়ে মিশন পসিবলের রহস্য! টানটান উত্তেজনা! ভিলেনকে ধরতে ছুটেই চলেছে টম ক্রুজের বাইক! স্পিড লিমিটের থোরাই কেয়ার! হঠাৎ ছন্দপতন! সটান নিয়ন্ত্রন হারিয়ে হিরো সোজা হাসপাতালে৷

ঠিক বুঝতে পারলেন না তো? এটাই বোঝাচ্ছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ৷ অনেক সময় চালানের ভয়ে কলকাতাবাসীদের কাছে ট্রাফিক পুলিশ অপ্রিয় হলেও, ফেসবুকে তাদের জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছে৷ ট্রাফিক নিয়ম মানতে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার অভিযান অনেক আগেই শুরু করেছ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ৷ তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের রসিকতায় মজছে সবাই৷

শুধুমাত্র ট্রাফিক আপডেট দিয়েই নয়, তাদের ফেসবুক পেজে ট্রাফিক আইনের বিষয় সাধারণ মানুষকে হাস্যকর মেমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পদক্ষেপ নজর কাড়ছে ইন্টারনেটের সামাজিক দুনিয়ায়৷ এবার কলকাতা ট্রাফিক পুলিসের ফেসবুক পেজে টম ক্রজের মেমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ইঠেছে৷

এর আগেও বেশ কিছু মেমে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সচেতনার শিক্ষাও দিয়েছে শহরবাসীকে৷ কয়েকদিন আগেই ট্যাক্সি রিফিউজালের ক্ষেত্রে কীভাবে শহরবাসী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবে, সেই বিষয়েও অভিনব কায়দায় ট্রাফিক বিভাগ সচেতনতার অভিযান চালায়৷

কখনও আবার জয়-বীরুর জুটি বেপরোয়া বাইক চালানো বা বাইকের স্টান্ট দেখানো নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক আইন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে সচেতনতার ঝড় তুলেছে, সেই ঝড়ে এখন কাবু সকলে৷

কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মেমেগুলির মধ্যে সব থেকে বেশি নজর কেরেছে সঞ্জুর মেমে৷ রাজ কুমার হিরানির ছবি এই বছর যেভাবে সঞ্জু ছবির হাত ধরে আবারও সফলতার মুখ দেখেছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের সঞ্জুর ট্রাফিক আইন নিয়ে সচেতনতার বার্তা কান পেতে শুনেছে কলকাতার বাসিন্দারা ৷

হলিউডের ছবি থেকে বলিউডের জনপ্রিয় গান ”ঘর সে নিকলতে হি, কুছ দুর চলতে হি…’’, কোনওটাই বাদ পড়েনি কলকাতা পুলিশের মেমের তালিকা থেকে৷ তবে এবার দেখার কলকাতা পুলিশের এই অভিনব চেষ্টা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কতটা সফল হয়৷