কলকাতা: প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে আমাদের জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। আর এই করোনা কালে আমরা আরো বেশি করে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছি। বাচ্চাদের পড়াশুনা থেকে অফিসের কাজ সবই চলছে অনলাইন মাধ্যমে। আর অবসর সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ বুলানো এখন শ্রেষ্ঠ অবসর যাপন। সোশ্যাল মিডিয়াতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ শেষ কিছু বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা, ব্যাক্তিগত বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি তুলে ধরা, বিভিন্ন গ্রুপে থেকে সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, খবর দেখা, খবর পড়া সবই এখন হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী দেশের মসনদে বসার সময় থেকেই রাজনৈতিক দল গুলিও সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের প্রচার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই ব্যাপারে বিজেপির ছিল এক চেটিয়া আধিপত্য। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল করার জন্য আলাদা করে তৈরী হয়েছিল আইটি সেল। ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি সেই পথে হাঁটলেও তারা অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে তৃণমূল ও বিজেপির সমান সমান টক্কর দেখেছে নেটিজেনরা।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর। ভোটের ফলে দেখা গেছে যে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃতীয় বারের জন্য বাংলার শাসনভার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই রয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার খবর উঠে এসেছে সংবাদ শিরোনামে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে কিছু ব্যাক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যে কিছু খবর বা ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যম গুলিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এই তথ্য ও পাওয়া গেছে সোশ্যাল সাইটে ফেক ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ভোটের পরবর্তী সময়ে বীরভূমে দুই মহিলার ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই তথ্যকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করেছেন।

কাল তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রাজনৈতিক হিংসা রোধে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই আজ ফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়া রোধে পদক্ষেপ করলো কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আজ একটি ছবি আপলোড করা হয়েছে যেখানে নাগরিক সমাজের কাছে ফেক নিউজের কোনো খবর থাকলে তা তৎক্ষণাৎ কলকাতা পুলিশকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। ফেক নিউজের খবর জানানোর জন্য cyberps@kolkatapolice.gov.in এই ইমেল আইডি ও ০৩৩২২১৪৩০০০, ৯৮৩৬৫১৩০০০ এই দুটো ফোন নাম্বার দেওয়া হয়েছে। হিংসা রোধে কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.