কলকাতা : আক্রান্ত হচ্ছেন কর্মীরা। নেওয়া হচ্ছে না কোনও ব্যবস্থা। গাফিলতির অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনে নামে কলকাতা পুলিশের কমব্যাট ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা ।

পিটিএস অর্থাৎ পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখান জওয়ানেরা। আন্দোলনকারীরা এজেসি বোস রোড, ডি এল খান রোড অবরোধ করে। বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে নিগৃহীত হন ডিসি (কমব্যাট ব্যাটালিয়ন) এন এস পল।

এর আগে দিল্লিতে পুলিশের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে। দিল্লি পুলিশের সদর দফতর কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। হাজারে হাজারে পুলিশকর্মী এসে জড়ো হয়েছিলেন দিল্লির আইটিও’র সামনে পুলিশ সদর দফতরে। পুলিশের উপর আক্রমণের ঘটনায় ছিল ওই বিক্ষোভ।

এবার দিল্লির পরে খোদ কলকাতায় পুলিশের বিক্ষোভ।তবে কলকাতা পুলিশ কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভে কারণ করোনা। তাদের অভিযোগ, কলকাতা পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের কর্মীরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন । কিছু দিন আগেই এক জন কমব্যাট ব্যাটালিয়নের জওয়ান আক্রান্ত হয়েছেন । কিন্তু তার সংস্পর্শে আসা পুলিশ কর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবিলায় একেবারেই সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়ছেন পুলিশ । এবার তাঁদের মধ্যেই বাড়ছে সংক্রমণের হার।ফলে উদ্বিগ্ন কলকাতা পুলিশ । সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের ৫০ জনেরও বেশি আক্রান্ত হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

আক্রান্ত হয়েছেন বালিগঞ্জ থানার এসডিও, মানিকতলা থানার সাব ইন্সপেক্টর, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনের ডিআরও, ময়দান থানার কনস্টেবল আর কয়েকজন হোমগার্ড, সিভিক ভলেন্টিয়ার রয়েছেন। এই তালিকায় আরও অনেকের নাম রয়েছে। আবার অনেক অফিসার সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন।

পুলিশ যুদ্ধটা শুরু করেছে গত ৮ মার্চ থেকে। দুই মাসের বেশি এই করোনা সংগ্রামে চিকিৎসকদের মতোই সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ কর্মীরা। শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, প্রতিটি প্রয়োজনে নাগরিকদের পাশে রয়েছেন বন্ধুর মতোই। কলকাতা পুলিসের তরফে করা হয়েছে রক্তদান শিবির, শহরবাসীকে সচেতন করতে কখন গান গেয়েছেন, কখনও বা আবৃত্তি বা রাস্তায় বসে ছবি এঁকেছেন।

কলকাতা কনটেনমেন্ট জোন। সেখানে লকডাউন স্বার্থক করতে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন তাঁরা। কিন্তু এইভাবে একের পর এক পুলিশ সদস্যের করোনা আক্রান্তের খবরে মন ভাঙছে পুলিশ কর্মীদের।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব