সুজয় পাল: শহরের ‘গ্রিন জোন’ গুলিতে আর কালো ধোঁয়া ছড়ানো রুগ্ন গাড়ি নিয়ে টহল দেবে না পুলিশ৷ শহরের দূষণ কমাতে এবং ‘গ্রিন জোন’গুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে এবার ব্যাটারি চালিত অত্যাধুনিক গাড়িতে টহল দেবে পুলিশ৷ এজন্য এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচটি ব্যাটারি চালিত গাড়ি কেনা হয়েছে৷ কলকাতার বিভিন্ন পার্ক কিংবা ময়দান এলাকায় এই গাড়িগুলিই টহল দেবে বলে জানিয়েছেন লালবাজারের এক কর্তা৷

সম্প্রতি গাড়ি প্রস্তুতকারি সংস্থা মাহিন্দ্রার থেকে ব্যাটারি চালিত পাঁচটি গাড়ি কিনেছে লালবাজার৷ পাঁচটি গাড়িকে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি ডিভিশনে৷ লালবাজার সূত্রে খবর, সাউথ ডিভিশনে দু’টি, নর্থ ডিভিশনে একটি, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনে (ইএসডি) একটি এবং সাউথ ইস্ট ডিভিশনে (এসইডি) একটি গাড়ি দেওয়া হয়েছে৷

উত্তর কলকাতায় টালা পার্ক৷ পূর্ব কলকাতায় সুভাষ সরোবর, দক্ষিণে ময়দান, রবীন্দ্র সরোবরের আশপাশে টহল দেবে গাড়িগুলি৷ প্রত্যেকটি গাড়িতে একজন সাব ইনস্পেক্টরের নেতৃত্বে চারজনের একটি বিশেষ বাহিনী থাকবে৷ পার্ক চত্বরে টহল দেওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় কোনও ঘটনা ঘটলে গ্রিন জোনে ছুটে যাবে এই গাড়ি৷ লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘দেশের মধ্যে প্রথম কলকাতা পুলিশই দূষণমুক্ত ব্যাটারিচালিত গাড়ি গ্রিন জোনে টহলদারির জন্য ব্যবহার করছে৷ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের অধীনে এই গাড়িগুলি কেনা হয়েছে৷ ভবিষ্যতে আরও এরকমের গাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে লালবাজারের৷’’

কী বিশেষত্ব রয়েছে এই গাড়িতে?

মাহিন্দ্রার অত্যাধুনিক এই গাড়ি ‘হ্যাচব্যাক’ মডেলের৷ চারজন বসার আরামদায়ক সিটের ব্যবস্থা রয়েছে৷ সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিতও৷ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা চার্জ দিলেই দীর্ঘক্ষণ চলতে সক্ষম৷ জিপিএস স্যাটেলাইট প্রযুক্তিও রয়েছে এই গাড়িতে৷ লালবাজার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে এই গাড়িগুলিকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে কলকাতা পুলিশের৷ ফলে লালবাজারে বসেই গাড়িগুলির অবস্থান জানা সম্ভব হবে৷

লালবাজার সূত্রে খবর, দূষণ কমাতে আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে৷ তার মধ্যে অন্যতম হল, কলকাতা পুলিশে ব্যবহৃত পুরনো গাড়িগুলিকে বদলে ভারত স্টেজ ফোর (বিএস-৪) প্রযুক্তির গাড়ি কেনা হয়েছে৷ আপাতত ৩০টি প্রিজন ভ্যান এবং পুলিশকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ৭১টি ছোট বিএস-৪ প্রযুক্তির বাস কেনা হয়েছে৷ ধাপে ধাপে বাকি গাড়িগুলিকেও বদলে বিএস-৪ প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহার করা হবে৷