কলকাতা:  অভিনেতা বিক্রমের বিরুদ্ধে স্বত্বপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ।  বেপরোয়া বাড়ি চালানো, অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু সহ একাধিক ধারায় অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা টালিগঞ্জ থানার পুলিশের।  ধারাগুলি  হল, ২৭৯, ৩০৪-এ।  ধারাগুলি জামিনযোগ্য হলেও দুবছরের জেল খাটতে হতে পারে অভিনেতাকে।  তবে পুলিশকেও বিষয়টিকে প্রমাণ করতে হবে।  সে কারণে অভিনেতা সুস্থ হলেই এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা।

  • এক ক্লিকে জেনে নিন তদন্তকারীরা কি কি বিষয় তদন্ত করে দেখবেন?

গাড়িটির বীভৎসতা দেখে তদন্তকারীরা অনুমান করছে গাড়ির গতিবেগ কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটারের বেশি ছিল৷ এছাড়া পুলিশ তদন্ত করে দেখার চেষ্টা করছেন গাড়ির ভেতরের যাত্রীরা মত্ত অবস্থায় ছিল কিনা৷ বিক্রমের গাড়িতে পিছন থেকে কোনও গাড়ি ধাক্কা মারায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা সে ব্যাপার নির্শ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ এছাড়া যান্ত্রীক ত্রুটির জন্য এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা তা দেখার জন্য বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গাড়িটি পরীক্ষা করানো হবে৷ তারপরে ফুটপাথে উঠে যায় গাড়িটি৷ ধাক্কা মারে একটি দোকানে৷ উল্টে যায় গাড়িটি৷ উদ্ধারের পরেও গাড়ির মধ্যে লেগে ছিল চাপ চাপ রক্ত৷ এর থেকেই বোঝা যায় দুর্ঘটনার বীভৎসতা৷

পড়ুন-  পথদুর্ঘটনায় মৃত জনপ্রিয় মডেল সোনিকা, জখম টিভি অভিনেতা বিক্রম
প্রসঙ্গত,  শনিবার ভোররাতের এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় কলকাতার নামী মডেলের৷ এই ঘটনায় গুরুতরভাবে  জখম হয়েছে টলিখ্যাত অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়৷ মৃত মডেলের নাম সনিকা সিংহ চৌহান৷  কলকাতার লেক মলের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এদিন ভোররাত চারটা নাগাদ৷

পড়ুন- মর্মান্তিক গাড়ি দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল তাঁর! কে ছিলেন এই সোনিকা?
জানা গিয়েছে, রাসবিহারীর দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি প্রথমে ঘুরে যায়৷ প্রথমে গাড়িটি রাস্তার পেছনে একটি বেদীতে ধাক্কা মারে৷ পরে পুরো একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে যায় গাড়িটি৷ ফুটপাথে উঠে ধাক্কা মারে একটি দোকানে৷ দুজনকে প্রথমে উদ্ধার করে এলাকার বাসিন্দারা৷ প্রথমে তাদের উদ্ধার করা যাচ্ছিল না৷ কারণ কোনও কারণে তাদের গাড়ির দরজা লক হয়ে গিয়েছিল৷ স্থানীয় বাসিন্দারা  টালিগঞ্জ থানায় খবর দেন৷ পরে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা অন্য একটি দরজা ভেঙে সোনিকা এবং বিক্রমকে উদ্ধার করা হয়৷ তারপরে তাদের রুবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ভোর পাঁচটায় হাসপাতালে ওই মডেলকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পুলিশ জেনেছে দুর্ঘটনার সময়ে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অভিনেতা বিক্রম৷

অন্যদিকে, বিক্রমের বাবা বিজয় চট্টোপাধ্যায় এদিন রুবি হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পরে গাড়ির এয়ারব্যাগ না খোলায় গাড়ি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।