কলকাতা: সেফ ড্রাইভ, সেভ কর্মসূচির জেরে শহরে কমে গিয়েছে পথ দুর্ঘটনা। এমনই দাবি করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে। লালবাজারের তরফ থেকে পরিসংখ্যান তুলে ধরার পরের দিনেই রাতের কলকাতায় ঘটল একাধিক দুর্ঘটনা। প্রাণ গিয়েছে একজনের। জখম হয়েছে বেশ কয়েকজন।

কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে রবিবার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর একটা পর্যন্ত শহরের পথে পাঁচটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রথমটি হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার ব্রেস ব্রীজ হাই রোডে। সাইকেল আরোহী মহেশতলার বাসিন্দা প্রেম চাঁদ ঠাকুর সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে বছর ৪০-এর প্রেম চাঁদ বাবুকে। তিনি বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে উত্তরের রাজা রামমোহন রায় রোডের জাগরণী ক্লাবের কাছে। ২০ বছরের রঞ্জিত দাস রাত ১১টা নাগাদ মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্টে। রঞ্জিত সহ আরও দুই বাইক আরোহী জখম হয় উক্ত ঘটনায়। বিদ্যাসাগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের।

রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ হো চি মিন সরণীতে ১২সি বাস স্ট্যান্ডের কাছে বাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে একটি ভারি যানের। যদিও সেই যান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি লালবাজার। উক্ত ঘটনায় বাইক আরোহী নির্মল কান্তি বিশ্বাস গুরুতরভাবে জখম হন। বছর ৪০-এর ওই ব্যক্তির বাড়ি মহেশতলায়। বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পথেই প্রাণ হারান তিনি। সোমবার ভোর পাঁচটা নাগাদ বাইপাসের ধারে রাস্তায় ব্যারিকেডের উপরে ধাক্কা মারে বাইক আরোহী বলরাম রাজবংশী। ১৯ বছরের ওই কিশোরের বাড়ি লেক টাউনের দমদম পার্ক এলাকায়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সল্ট লেকের আমরি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

সোমবার দুপুরে উত্তর কলকাতার রাজাবাজারের দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্র সহ মোট তিন জন গুরুতর জখম হয়েছেন। এদিন বেলা একটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে রাজা বাজার সায়েন্স কলেজের সামনে। স্থানীয় রামনাথ বিশ্বাস লেনের বাসিন্দা ৬২ বছরের তপন সাহা এবং তাঁর ২৫ বছরের ছেলে দেবজিত সাহা গুরুতর জখম হয়েছেন। একইসঙ্গে উক্ত ঘটনায় জখম হয়েছেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন নামের আরও এক ব্যক্তি। বছর ৪০-এর ওই ব্যক্তি নারকেলডাঙার বাসিন্দা। আহত সকলে শিয়ালদহের কাছে এনআরএস মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।