কলকাতা: যে ভূতাত্ত্বিকভাবে ভারত যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গবেষকরা সতর্ক করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি ঝুঁকি থাকতে পারে বলে কিছুদিন আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। আর আজ শনিবার কেঁপে উঠল কলকাতা, যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বাংলা।

পড়ুন আরও- কেঁপে উঠল কলকাতা, ভূমিকম্পের আতঙ্ক

গবেষকরা জানিয়েছেন, গতিশীল ভূতাত্ত্বিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে। গবেষক দলের প্রধান নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ মাইকেল স্টেকলার টমসন বলেন, ওই ধরনের ভূমিকম্প কবে ঘটতে পারে, সে পূর্বাভাস আরও গবেষণা না করে দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতের পূর্ব অংশ ও বাংলাদেশের যে অঞ্চল সম্ভাব্য সেই ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তার ১০০ কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের বসবাস। ফলে এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এর আওতায় পড়্ছে কলকাতাও।

বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বদ্বীপটির নিচে যে দুটি টেকটনিক প্লেট আছে এবং টেকটনিক প্লেট দুটির মাঝে যে ফল্ট লাইন আছে তা থেকে তৈরি হওয়া ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক বন্যা ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষকে এই নদীর উপর নির্ভর করতে হয়। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেহেতু এখানে গত ৪০০ বছর ধরে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে ফলে তা যেকোন সময় রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার মতো শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে।

২০০৪ সালের সুনামি, ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্পে, ২০১১ সালে জাপানের ভূমিকম্পে একইরকম ভৌগলিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কবে আসবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা না গেলেও ভূমিকম্প যে আসছে সেটা নিশ্চিত। ২০০৪ সালে যে ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছিল, তার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু। সেই একই  ফল্ট লাইনে নতুন এই ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

গত দশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি কম্পিউটার মডেল তৈরির মাধ্যমে দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের ভূ-তাত্ত্বিক প্লেট উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে মিয়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের ভূ-গাঠনিক প্লেটে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা। সেই তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্ব অংশের প্লেট মায়ানমারের পশ্চিম অঞ্চলের প্লেটকে বছরে ৪৬ মিলিমিটার করে ঠেলছে।