সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: তাপমাত্রা আর্দ্রতার সঙ্গে রিয়েল ফিল নাকাল করবে কলকাতাবাসীকে। এমনটাই পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের। বুধবারও যথারীতি নাকাল অবস্থা হবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। রিয়েল ফিল হাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে মিলছে সেই তথ্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দিল্লির রিয়েল ফিলকে টেক্কা দিচ্ছে কলকাতার রিয়েল ফিল।

সরকারি এক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লিতে বুধবার দুপুর ১২টা থেকে তিনটের মধ্যে রিয়েল ফিল থাকবে ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত। সেখানে এই সময়ের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে কলকাতার রিয়েল ফিল পৌঁছতে পারে ৪১ থেকে ৪৩ ডিগ্রিতে।

অথচ স্বাভাবিক নিয়মেই কলকাতার তাপমাত্রা বুধবার থাকবে সর্বোচ্চ ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ , সর্বনিম্ন ৫২ শতাংশ।

বুধবার দিল্লির তাপমাত্রা থাকবে ৪১ ডিগ্রি তাপমাত্রা। দিল্লিতে গড় তাপমাত্রা থাকছে ৪২ ডিগ্রির বেশি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপমাত্রা চলে যেতে পারে ৪৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাপপ্রবাহও আরও বেশি হবে। তবে তাপপ্রবাহ চলতে থাকায়, দিল্লি, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, সৌরাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে তাপ অব্যাহত থাকবে। ফলে গরমের অস্বস্তি থেকে এখনই রেহাই পাওয়া যাবে না। তাই জারি রয়েছে লাল সতর্কতা।

এদিকে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছিই। যেমন মঙ্গলবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.০ ডিগ্রি সেলসসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৬ শতাংশ , সর্বনিম্ন ৫৯ শতাংশ।

সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বুধবার কোনও সম্ভাবনা নেই উলটে দিনভর জারি থাকবে গরমের দাপট।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সোমবার দুপুরেই জানিয়েছিল, সোমবার থেকে টানা তিন দিন অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। জানানো হয়েছিল কলকাতার ও আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের থেকে ২-৩ ডিগ্রি বেশি। পারদ দেখলেই বোঝা যাবে পূর্বাভাস মতোই থাকছে আবহাওয়ার হাল হকিকত।

কিন্তু কেন এমন হচ্ছে ? আবহবিদরা জানাচ্ছেন, কলকাতার আকাশে মেঘ থাকছে না। দিল্লির আকাশে মেঘ আনাগোনা তুলনামূলক বেশী। তাই এই পার্থক্য রয়েছে।

কলকাতা, দুই ২৪ পরগণা, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদে আগামী তিনদিন এই তাপমাত্রা থাকবে। তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তাও দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেই তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ১ থেকে ৯ জুনের মধ্যে দেশে গড়ে ৩২.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু এ বার সেটা হয়েছে মাত্র ১৭.৭ মিলিমিটারে। ফলে এই ক’ দিনে বৃষ্টির ঘাটতি ছুঁয়েছে ৪৫ শতাংশ।সব থেকে খারাপ অবস্থা মধ্য ভারতের। সেখানে ঘাটতি ৬৬ শতাংশ।

এর মধ্যে গুজরাত এবং কচ্ছ অঞ্চলে বৃষ্টির ঘাটতি একশো শতাংশ। অন্য দিকে মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এবং মরাঠাওয়াড় অঞ্চলে বৃষ্টি ঘাটতি যথাক্রমে ৫০ এবং ৭০ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব এবং উত্তরপূর্ব ভারতে বর্ষার ঘাটতি ৪৯ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণ হলে সেখানে আরও বিপদেরই আশঙ্কা রয়েছে।

সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা আসে। তার পর পাঁচ জুনের মধ্যে উত্তরবঙ্গসহ, উত্তরপূর্ব ভারতে বর্ষা আসে। এর তিন চার দিন পর কলকাতা দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে। ১০ জুনের মধ্যে বর্ষা গোয়া হয়ে মুম্বই ঢোকে। কিন্তু এ বার এই ১০ জুনেও তার অগ্রগতি শুধুমাত্র কেরল। যাবতীয় বৃষ্টি হচ্ছে ভারতের দক্ষিণাংশ এবং উত্তরপূর্বে। অন্য অঞ্চলে তেমন বৃষ্টি নেই।