কলকাতা: নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণ-সহ একাধিক ইস্যুতে বুধবার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয ট্রেড ইউনিযনগুলি৷ সিটু, আইএনটিউসির মতো শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্মঘট সফল করতে মরিয়া৷ বামেদর পাশাপাশি এরাজ্যে ধর্মঘটকে সমর্থন করছে কংগ্রেস। আর ধর্মঘটে নাগরিক স্বার্থ সুনিশ্চিত করতে এবার রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট৷

বুধবারের বনধের বিরোধিতা করে হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা৷ মঙ্গলবার জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দেয় আদালত৷ এই নির্দেশের পাশাপাশি, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের স্পষ্ট নির্দেশ, বনধকে কেন্দ্র করে যাতে জনজীবন ব্যাহত না হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে। বনধের দিন সচল রাখতে হবে রেল, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ, দমকল, হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবাগুলিও যাতে সচল থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে। বুধবার বনধের দিন খোলা রাখতে হবে স্কুল, কলেজ, সরকারি অফিস৷ একইসঙ্গে আদালতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলিও খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

এরই পাশাপাশি বনধকে কেন্দ্র করে জনগণের সম্পত্তির যাতে কোনও ক্ষতি না হয় সেব্যাপারেও রাজ্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট৷ প্রসঙ্গত, বুধবার কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের বনধের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক আইনজীবী৷ বনধ অসাংবিধানিক বলে আদালতে সওয়াল করেন ওই আইনজীবী৷

হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করে ওই আইনজীবীর আরও জানান, এর আগে একাধিকবার বনধ নিয়ে দেশের বিভিন্ন কোর্ট এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ একাধিকবার বনধকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছে আদালত৷ তারপরেও রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের তরফে বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে৷ আদালতকে এব্যাপারে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ওই আইনজীবী৷ জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতও রাজ্য প্রশাসনকে বুধবার বনধের দিন নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে নির্দেশ দিয়েছে৷