কলকাতাঃ  মেসোমশাইকে স্বামী বানিয়ে হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে হাওড়ার ডিআই। একই সঙ্গে স্কুল শিক্ষিকা কাকুলি পাঁজার দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর তার মৃত্যুকালীন প্রাপ্য ৭০ বছরের বৃদ্ধা মা করুনা পাঁজাকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের।

১৯৯৮ সালে হাওড়া দাসনগর থানার অন্তর্গত সাহানপুর নেতাজি সুভাষ হাই স্কুলের ভূগোলের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন কাকুলি পাঁজা। তার ওপর নির্ভরশীল মা করুনা পাঁজা ৭০ বছর বয়স। চাকুরীরত অবস্থায় ২০১১ সালের ৭ ই এপ্রিল মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মারা যান কাকুলী পাঁজা। মেয়ের মৃত্যুর পর মা করুনা পাঁজা রাজ্যের শিক্ষা দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে তাঁর অবিবাহিত মেয়ের প্রাপ্ত পাওনা এবং পেনশনের জন্য আবেদন জানান। কিন্তু সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা দফতর কোন পদক্ষেপ নেননি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মেয়ের মৃত্যুর পর ৭০র বৃদ্ধার প্রায় অনাহারেই কাটছিল। অবশেষে এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ২০১৫ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত হাওড়ার ডি আইকে পেনশন এবং মৃত্যুকালীন প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওই ডিআই জানান কাকুলী পাঁজা বিবাহিত। ডিআইয়ের এহেন উত্তরে হতচকিত হয়ে পড়েন করুনা দেবী। যদিও যাকে হাওড়ার ডিআই কাকুলির স্বামী বলছেন, তিনি সম্পর্কে কাকুলী পাঁজার মা করুনা দেবীর বোন আলপনা জানার স্বামী প্রবীর জানাকে মৃত মেয়ের স্বামী হিসেবে দেখানো হয়।

নিরুপায় হয়ে ওই বৃদ্ধা স্থানীয় পঞ্চায়েত, জেলা শাসক, বিডিও, র কাছ থেকে তাঁর মেয়ের যে অবিবাহিত তার প্রমাণ পত্র নিয়ে ফের শিক্ষা দফতরে জমা দেন। কিন্তু তাতেও বরফ গলে নি। ২৪ শে মে ২০১৮ সালে হাওড়া জেলাশাসক ডিআইকে জানান, করুনা পাঁজা হলেন মৃত কাকুলী পাঁজার মা, এবং একমাত্র উত্তরাধিকারী। তার পরও হুশ ফেরেনি শিক্ষাদফতরের। ফের একবার তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।

বৃহস্পতিবার মামলা চলাকালীন বৃদ্ধা করুনা পাঁজার পক্ষের আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতের জানান, কর্মরত মৃত শিক্ষিকা কাকুলী পাঁজার প্রাপ্য এবং পেনশনের অধিকারী একমাত্র তার মা। Death came retirment benefit 1981 উল্লেখ আছে সেখানে ৭০ এর বৃদ্ধার মেয়ে যে অবিবাহিত ছিল এবং প্রবীর জানা যিনি কোন আবেদনই করেননি সম্পর্কে মেশমাশাই তার উপযুক্ত প্রমাণ দেওয়া সত্বেও রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর ও পেনশন দফতর মৃত মেয়ের প্রাপ্য থেকে মাকে বঞ্চিত করতে পারেন না। বিচারপতি রাজশ্রী ভরদ্বাজ নির্দেশ দেন আগামী ১৬ সপ্তাহের মধ্যে বৃদ্ধার সমস্ত পাওনা মিটিয়ে দিতে।