কলকাতা:  নির্দিষ্ট দিনে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীকে গ্র্যাচুইটি এবং পেনশন দিয়ে দেওয়া সরকারের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য। আর তা না দিতে পারলে কিংবা দেরি বলে সরকার এরজন্যে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেবে। এমনকি যত দেরি হচ্ছে তত সুদ দেবে।

কারণ, পেনশন ও গ্র্যাচুইটির জোরেই অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাঁর উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যদের জীবনধারণ নির্ভর করে। যদি প্রাপ্য সুদ পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে কড়া নাড়তে দেরি করেন, তাহলেও সেই দাবি নাকচ করা যাবে না। কারণ, ওই সুদ দিলে কোনও তৃতীয়পক্ষের স্বার্থ ক্ষুন্ন হবে না। এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটাই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের। এমন পর্যবেক্ষণ শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মামলাকারীকে প্রাপ্য সুদ দেওয়ার জন্য রাজ্যকে সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলা এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বেহালার ম্যান্টন এলাকার ‘সুকল্যাণী’তে সেলস গার্ল হিসেবে কাজ করতেন সবিতা দাশগুপ্ত। ২০১১ সালের ৩০ জুন তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর তাঁর পেনশন পেমেন্ট অর্ডার বের হয়। আর গ্র্যাচুইটি ও বকেয়া পেনশন দেওয়া হয় ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর। এই দেরিতে পাওয়া টাকার উপর তিনি সুদ দাবি করেন। এই বিষয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে।

ফাইল ছবি

কেন এমন কর্মীর সুদ প্রাপ্য, তার কারণ ব্যাখ্যা করে আদালত বলেছে, যেদিন অবসর নেবেন, সেদিনই অবসরকালীন প্রাপ্য পাওয়া প্রত্যেক সরকারি কর্মীর মূল্যবান অধিকার। গ্র্যাচুইটি ও পেনশন কোনও হিসেবেই সরকারি খয়রাতি নয় যে, যখন খুশি তা দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ে তা পাওয়া প্রত্যেক কর্মীর অধিকার।

সেইসূত্রে আদালতের নির্দেশ, রাজ্য সরকারের ডিরেক্টর অব পেনশন, প্রভিডেন্ড ফান্ড অ্যান্ড গ্রুপ ইনসিওরেন্স সহ সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার মামলাকারীকে দেরিতে দেওয়া অর্থের (গ্র্যাচুইটি ও পেনশন) উপর বার্ষিক ৯ শতাংশ হারে সুদ দেবেন। সেইমতো ২০১১ সালের ১ জুলাই থেকে ওই সুদের হিসেব করতে হবে। এই রায় হাতে পাওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। খবর বাংলা ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রে।