কলকাতাঃ দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নাম মাত্র টাকায় চিকিসা পরিষেবা দিলেও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ১৪০০ চিকিৎসক। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ ডাক্তাররা। দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। চলতি সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত কি নির্দেশ দেয় সেদিকেই তাকিয়ে চিকিৎসকরা।

এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪০০ জন আয়ুষের চিকিৎসক রয়েছেন যারা মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন। হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী, যোগা। চিকিৎসক মনোজ কুমার দত্ত শান্তনু সেন এবং চিকিৎসক আনসারুল হক পক্ষের আইনজীবী সমিত ভঞ্জ জানান, বছরের পর বছর ধরে সামান্য বেতনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদের হোমিওপ্যাথি আয়ুর্বেদিক ইউনানী চিকিৎসা করতেন আয়ুশের চিকিৎসকরা। সময় যত গড়িয়েছে ধীরে ধীরে তাদের দৈনিক প্রাপ্য থেকে মাসোহারা এসে দাঁড়ায়। বর্তমানে তারা 16 হাজার টাকা বেতন পান এই পর্যন্তই। এছাড়া রাজ্য সরকারের কোন প্রকল্পের আওতার মধ্যেও তারা নেই। এমনকি অবসরকালীন ভাতাও তাদের জোটে না। তবুও তারা মানুষকে পরিষেবা দিয়ে আসছেন বলে জানান আইনজীবী।

সমিতবাবু জানাচ্ছেন, আয়ুশের চিকিৎসকদের জন্য ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েট অথবা পোস্ট গ্রাজুয়েট আবশ্যিক। এভাবেই ২০১২ সাল থেকেই চলে আসছিল। কিন্তু ২৩ শে নভেম্বর ২০১৯ সালে রাজ্য সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। আর এরপর থেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে এই আয়ুশ চিকিৎসকরা। রাজ্য সরকার নতুন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তাতে বলা হয়েছে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তিরাই আয়ুশের চিকিৎসকের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই আয়ুশের চিকিৎসকরা সরকার বেতনভুক্ত হবেন এবং অবসরকালীন ভাতা ছাড়াও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আছে সমস্ত তাই পাবেন এই আয়ুশের চিকিৎসকরা।

বছরের পর বছর ধরে যারা পরিষেবা দিয়ে আসছিলেন সেই আয়ুষ চিকিৎসকদের অভিযোগ, সরকার তাদের কোনও সুযোগ না দিয়েই সরাসরি এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। শুধু তাই নয়, বলা হয় ২৮১ জনকে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন আয়ুস এর পরিষেবা দিয়ে আসছিলেন তারা এই ২৮১ জনের মধ্যে আসতে পারবেন না। আর এই সিদ্ধান্ত সরকারের দ্বিচারিতা বলে অভিযোগ করেছেন পুরনো আয়ুশ চিকিৎসকদের।

যাদের নিয়োগ করা হচ্ছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যা চাওয়া হয়েছে তা পুরনো আয়ুষ চিকিৎসকদের একই শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে। তাহলে কেন নতুন করে সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানালো যে স্থায়ী আয়ুষ চিকিৎসক নেওয়া হবে। যারা এতদিন অস্থায়ী হিসেবে কাজ করছিলেন তাদেরকে সুযোগ কেন দেওয়া হল না তা নিয়েই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV