কলকাতা: হাতে সময় বলতে আর ৩০ বছর। গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনাল মার্কিন রিপোর্ট। উল্লিখিত রিপোর্ট অনুযায়ী এরফলে সারা দেশের উপকূলবর্তী শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবিত হতে পারে কলকাতাই। এর আগেও এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট সামনে এসেছিল। কিন্তু নতুন রিপোর্ট ছাপিয়ে গেছে পুরোনো সব তথ্যকে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০৫০ সালে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কলকাতা, মুম্বাই সহ আশেপাশের বেশ কিছু ছোট বড় শহরগুলিরও।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু কলকাতা না। গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর জেরে প্রবল ক্ষতি হতে পারে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি জেলার। এরমধ্যে রয়েছে হাওড়া, উত্তর চব্বিশ পরগণা, হুগলী, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা। রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং -এর দাপটে প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে হাওড়ার উদয়ণারায়ণপুর, উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ, হুগলীর সিঙ্গুর ও হরিপাল, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল- এর ফলে বিপদ সীমার রেখায় অবস্থান করছে বলে রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে।

মার্কিন রিপোর্ট জানাচ্ছে, ২০৫০ এ প্লাবিত হল শুধুমাত্র ভারতে প্রভাবিত মানুষের সংখ্যা হবে ৩ লক্ষ। বাংলাদেশে প্রভাবিত হবে প্রায় ৪.২০ কোটি মানুষ। সারা বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি মানুষ এরফলে বিপাকে পড়বে। এরমধ্যে শুধুমাত্র এশিয়া মহাদেশেই সংখ্যাটা প্রায় ২৫ কোটির কাছাকাছি।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সমুদ্রের জলতলের বৃদ্ধির ফলে ২১০০ সালে আরও বড় বিপদে পড়তে পারে কলকাতা। প্রায় ৮০ বছর পর জলতল বৃদ্ধির জেরে জমি হারাবেন কমপক্ষে ১ কোটি ৪ লক্ষ শহরবাসী।

পরিবেশবিদ কঙ্কনা দাস বলেছেন, বিপদের হুমকি আসন্ন। আমরা যদি সাধারণ ভাবেই এখনকার মত জীবনযাপন করতে থাকি তবে এখন এমন অনেক শহর আছে যেগুলি আমাদের কাছে পরিচিত, কিন্তু আর ৩০ বছর পর সেইগুলিকে আমরা আর দেখতে পাবো না।