স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নিজামুদ্দিনের সমাবেশে যোগ দেওয়া ও তাদের সংস্পর্শে আসা মোট ২১৮ জনকে নিউটাউনের হজ টাওয়ারে আনা হল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। নিউটাউনের হজ টাওয়ারকে সম্প্রতি কোয়ারণটাইনে সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ২১৮ জনের মধ্যে রয়েছে ভাটপাড়ার পাঁচটি দম্পতি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে উদ্ধার হওয়া ভিন দেশ ও ভিনরাজ্যের ৩০ জন এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, দক্ষিণ দিনাজপুর ও খড়গপুর কলকাতা, পার্ক সার্কাসের বেশ কয়েকজনও রয়েছেন। প্রত্যেককে ১৪ দিন বাধ্যতামূলকভাবে হজ টাওয়ারে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করছেন।

দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদে একটি ধর্মীয় জমায়েত উপলক্ষে জড়ো হওয়া মানুষজনের মধ্যে অন্তত দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। গোটা দেশে ২০০০ জনকে কোয়ারণটাইনে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাদের মধ্যে ২৪ জন দিল্লিবাসীর পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, দিল্লির মারকাজ নিজামউদ্দিন মসজিদের বিপুল জমায়েতের কারণেই দেশজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার ছুঁতে পারে। তাই নিজামুদ্দিনের ওই সমাবেশ দেশের করোনা মহামারির এপিসেন্টার হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন চিকিৎসকরা। জানা গিয়েছে, মার্চের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত চলা তবলিঘ-ই-জামাতে যোগ দিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরঘিজস্তান থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিল।

দিল্লির মসজিদে যারা এসেছিল তাদের মধ্যে প্রথম ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের পরীক্ষা হয় হায়দরাবাদে। তেলেঙ্গানায় ৬ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে যারা দিল্লির ওই মসজিদে যোগ দিয়েছিল। মসজিদের প্রধান মৌলানারও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও তিনি এদিন অন্তরালে থেকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেছেন, কোয়ারেন্টাইনে আছেন। অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকদের কথা মতো চলতে।