সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: উৎসবের সময় ফলের দাম চড়া থাকে৷ এই দাম কমানোর লক্ষ্যে শুধুমাত্র ফলের জন্য সরকারি কৃষক মান্ডি চাইছেন এ বার ব্যবসায়ীরা৷
কেন এই দাবি? তার কারণ হিসাবে জানানো হয়েছে, উৎসবের সময় ফলের দাম চড়া থাকার জন্য ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন৷ তবে, শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের ক্ষতির বিষয়টিও নয়৷ চড়া দামের জন্য সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ৷

উৎসবের সময় কোনও ফলের দাম যেমন অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়৷ তেমনই, কোনও ফলের দাম আবার কয়েক গুণও বেড়ে যায়৷ এই ধরনের সমস্যার সমাধান খুঁজছেন এখন কলকাতার মেছুয়া ফল বাজারের ব্যবসায়ীরা৷ তাঁরা জানিয়েছেন, উৎসবের সময় ফলের দাম চড়া হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে যেমন কম কেনেন৷ তেমনই, অনেকে আবার না হলেই নয়, তাই সামান্য ফল কেনেন৷ যার জেরে, ছোট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন৷

অথচ, বড় ব্যবসায়ীরা মুনাফা করেন৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেছুয়া ফল বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “মান্ডি না থাকার কারণে, উৎসবের আগে বড় ব্যবসায়ীরা অনেক কম দামে ফল কেনেন৷ তার পর ওই ফল চড়া দামে বিক্রি করেন৷ আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীরা আগে থেকে কিনে রাখতে পারি না৷ তাই বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনতে হয়৷’’

একই সঙ্গে ওই ব্যবসায়ী বলেন, “চড়া দামে ফল কেনার পর কোন দামে বিক্রি করব, সেটা বোঝা দায় হয়ে ওঠে৷ কারণ একেই বেশি দামে ফল কিনতে হয়৷ এর পরে আমার লাভের জন্য আরও দাম বাড়াতে গেলে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেবেন৷’’ এ ভাবে দু’ দিক থেকে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ফলের মান্ডি থাকলে এই জুলুম চলত না৷ সরকার যদি আমাদের দিকে না তাকায়, তা হলে আমরা চলব কী করে?”

এখন রমজান মাস চলছে৷ আসিফ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘শুধু রমজানের সময় নয়৷ এই সমস্যা সারা বছরের৷ যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব ফল বলতে শুধুই আম, তাই এমনিতেই ফল বাইরে থেকে কিনতে হয় বেশি দামে৷ মান্ডি না থাকায় যে যাঁর খুশি মতো দাম বাড়িয়ে ফল বিক্রি করছেন৷ এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবা উচিৎ৷’’

এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে বলেন, “ওরা মান্ডি চাইছেন ওই মেছুয়া বাজারেই৷ কিন্তু, ওখানে যেভাবে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে, যেভাবে ব্যবসায়ীরা রাস্তা জুড়ে ফল বিক্রি করেন, কোথায় কাকে সরাবো?” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ওদের হাওড়ায় মান্ডি করার কথা বলেছি৷ কিন্তু ওরা এটাতে রাজি নন৷’’

তবে, রাজি হলেও সমস্যা থেকেই যাবে৷ কেন? কমল দে বলেন, ‘‘ওরা যদি রাজিও হয়ে যান, তা হলে ওদের সেই হাওড়া থেকে ফল কিনে এনে এই বাজারে বিক্রি করতে হলে খরচ বেড়েই যাবে৷ সমস্যার সমাধান কিছু হবে না৷’’