পূজা মণ্ডল, কলকাতা: হেয়ার স্কুলের ভিতর তখন চলছে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান পর্ব। বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিতে মালা দিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে স্কুলের বাইরে পুলিশি পাহারার কড়া ঘেরাটোপ। একটা মাছিও গলার উপায় নেই।

বাইরে রাস্তার দুপাশে ভিড় করে রয়েছে বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রী থেকে দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা কর্মীরা। তাঁদের একজনকে প্রশ্ন করা হল “ভাই এখানে কি হচ্ছে জানো?” স্বলাজ হাসিতে তার উত্তর – “মমতা ব্যনার্জীর অনুষ্ঠান হচ্ছে, তাই এসেছি। এখানে কি হচ্ছে ঠিক বলতে পারছি না।“ “বিদ্যাসাগরের লেখা একটা বইয়ের নাম বলতে পারবে!” তার উত্তর “ঠিক মনে পড়ছে না”। বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আগত বাংলা বিভাগের ছাত্রের কাছে মিলল উত্তর।

হেয়ার স্কুলে অনুষ্ঠানের পাঠ শেষ। তখন পদযাত্রা করে বিদ্যাসাগর কলেজে মূর্তি উন্মোচন করতে রওনা মুখ্যমন্ত্রী। দলের সমর্থকরা উদগ্রীব তার সঙ্গে পা মেলাতে। এমন সময় পদযাত্রায় পা মেলানোর আগে প্রস্তুতি তৎপর এক দলীয় কর্মী ওই একই প্রশ্নের উত্তরে জানালেন “কাউন্সিলরের ডাকে এখানে এসেছি। বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসবে।“ অন্য প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন, “আমি তো অবাঙালি তাই বিদ্যাসাগরের বইয়ের নাম ঠিক জানি না।“

হেয়ার স্কুলের কর্মসূচি শেষ করে বিদ্যাসাগর কলেজের পথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পদযাত্রার পুরভাগে রয়েছে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি। সেটিকে অনুসরণ করেই বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসানোর জন্য পদযাত্রায় পা মিলিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর সহ মন্ত্রীবর্গ। সেই সঙ্গেই পদযাত্রায় হাঁটছেন সুবোধ সরকার –শুভাপ্রসন্নরা। সেই সঙ্গে চলছে “জয় হিন্দ জয় বাংলা স্লোগান”।

পদযাত্রায় অংশ নেওয়া এক ছাত্রী জানাল সে মৌলানা আজাদ কলেজের বায়োলজি বিভাগের শিক্ষারত। কিন্তু তার উত্তর “দিদির অনুষ্ঠানে এসেছি।“ “বিদ্যাসাগর আমাদের ভাষা শিখিয়েছে জানি কিন্তু এখন বইয়ের নাম তো মনে পড়ছে না।“ বলেই সতীর্থদের সঙ্গে পদযাত্রায় মিশে গেল সে।

পদযাত্রা শেষ হল। বিদ্যাসাগর কলেজে গিয়ে বিদ্যাগাসরের মূর্তি উন্মোচন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষ হল। তিনি কনভয়ে উঠে গেলেন। যথা জায়গায় রইলেন ঈশ্বর চন্দ্র। বাড়ি ফিরে গেল সবাই। শুধু কি উপলক্ষ্যে সকাল থেকে জমায়েত করেছেন সেই কারণ অজানা থেকে গেল কিছু মানুষের কাছে। কারো কারো কাছে বর্ণপরিচয়ও।