আমাদের শহরে রয়েছে অনেক সমস্যা। কিন্তু তা সত্ত্বেও আজ জীবনযাত্রার মান ও পরিকাঠামোয় দেশের মধ্যে সেরা শহর আমাদের কলকাতা। কেমন লাগছে এ খবর পড়ে? kolkata24x7.com জানতে চেয়েছিল কয়েকজন পাঠকের কাছে। কী বললেন তাঁরা?

বেঁচে আছি, ভাল নেই কলকাতা ছেড়ে

পৌলমি ভট্টাচার্য সান্যাল, বিজ্ঞাপন সংস্থায় কর্মরত

599555_343110392438638_1791545566_n

“ভালো থাকা আর বেঁচে থাকার মধ্যে একটা বিশাল তফাৎ রয়েছে। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা-সবই কলকাতায়। আজ আমি কর্মসূত্রে দিল্লির বাসিন্দা। প্রথম প্রথম এখানে এসে একটুকরো কলকাতা খুঁজে বেড়াতাম। সাউথ কলকাতার সঙ্গে সি আর পার্ক, কখনও করোল বাগের সঙ্গে নিউ মার্কেটের মিল খুঁজে বেড়াতাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, কখনও খুঁজে পাইনি। উপলব্ধি করেছি, কলকাতা সুন্দর সেখানকার মানুষদের জন্যই। আজও সব মনখারাপ জুড়িয়ে যায় কলকাতার হাওয়ায়। জীবনের নিয়মে হয়তো বেঁচে আছি, কিন্তু ভাল নেই কলকাতাকে ছেড়ে। তাই সুযোগ পেলেই অক্সিজেনের লোভে ছুটে যাই বারবার শহরের দোরে। এ প্রবাস কবে শেষ হবে তার অপেক্ষায় আছি।”

..মুক্তি পাইনি শুধু তোমাকে আবার দেখবো বলে

তানিয়া সরকার, ফোটোগ্রাফার

10402599_635843149836972_5124994267012887575_n

“অঞ্জন দত্তের কথার সূত্র ধরে বলব, “আমার ভাল আমার খারাপ, আমার পুণ্য আমার পাপ-আমারই নাম কলকাতা!”

এই শহরকে কেন্দ্র করে করেই তো আমাদের বেঁচে থাকা। একটু একটু করে বেড়ে ওঠা। একঘেয়েমি জীবন পছন্দ না হলে যতই বলি, আর ফিরব না কলকাতায়, ততই বেশি করে জড়িয়ে পরি প্রতিদিন। কৈশোরের খেলাঘর, যৌবনের অমরাবতী। তিলোত্তমার উদ্দেশে বলছি, “জন্মেছি আমি আগেও অনেক, মরেছি তোমার কোলে..মুক্তি পাইনি শুধু তোমাকে আবার দেখবো বলে।

আলাদা করে আমার শহরই যে শ্রেষ্ঠ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমৃত্যু আমার শহরের হৃদয়ে জন্মানোর জন্য আমি গর্ববোধ করব।”

এখনও অনেক পথ চলা বাকি

অর্ণব দত্ত, তথ্য প্রযুক্তি কর্মী

1544373_495563603893699_979599751_n

“এ শহরে বহু ভাল লাগা জড়িয়ে রয়েছে। হয়ত আমি শহরের ইতিহাস বিশেষ জানি না। কিন্তু আমার ভাল লাগে ইকো পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট, সেক্টর ফাইভ। এ রাজ্যে বসেও তথ্য-প্রযুক্তির কাজ করা যায় তা দেখিয়ে দিয়েছে শহর। তবে এখনও বহু ফাঁকফোকর রয়েছে। সেগুলি ভরাট করতে মন দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও সচেতন হওয়া দরকার। যেখানে সেখানে নোংরা করাটা বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে। বাড়াতে হবে মহিলাদের নিরাপত্তাও।”

ঘড়ির কাঁটা এখনও ধীরে চলে শহরে

জুনা, ফোটোগ্রাফার

399200_196180020471747_910691642_n

“শহর কলকাতা নামের মধ্যে অসংখ্য প্রেম ও ঘটনা জায়গা পায়। এমন শহর যার অস্তিত্বই আদতে বিস্ময়কর। যে শহর ঐতিহ্যে প্রাচীন ও আধুনিকতায় পাশ্চাত্যের ভারসাম্যকে রক্ষা করেছে যত্ন করে। জিন্সের সঙ্গে কপালে টিপ, রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানে ভিড়, তবু ফাঁকা নেই ক্যাফে কফি ডে-ও।

আমার শহর এমন এক শহর যেখানে এখনও কম পয়সায় পেটপুরে খাওয়া যায়। স্ট্রিট ফুডে এ শহর পকেট ফ্রেন্ডলি। ভিনদেশিদের দেখলে গদগদ আদরে ভরিয়ে তুলতে পারে এমন এক শহরই আমার কলকাতা।

১২ মাসে ১৩ নয়, এখন ৫২ পার্বণের শহর আমার। ঘড়ির কাঁটা এখনও ধীরে চলে এখানে। তাই বোধহয় মানুষ এখনও যন্ত্র হয়ে ওঠেনি পুরোপুরি।

সেলাম কলকাতা। আর অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের আগলে রাখার জন্য।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ