কলকাতা: কলকাতা নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে সাজা ঘোষণা করবেন। হাই প্রোফাইল এই মামলায় গত বুধবার কঠোর নিরাপত্তায় ৩১ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। যার মধ্যে দুই মহিলা সহ ১৯ জন অভিযুক্ত তাদের দোষ স্বীকার করে নেন আজ সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করবেন নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক।

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। সে বছর ওইদিন দুর্গাপুজোর অষ্টমী ছিল। পুজোর সময় রাজ্যে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। বিস্ফোরণে ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতরা হলেন সাকিল আহমেদ ও শোভন মণ্ডল। সেসময় ৫৫টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস, আরডিএক্স, সিম কার্ড উদ্ধার করেছিল পুলিশ। বিস্ফোরণের ঘটনার পরই পুলিশ ও দমকলে খবর দেন প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা।

চলতি বছরের জুন মাসে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণের কাণ্ডের মূল পাণ্ডা হাবিবুর রহমান শেখকে দক্ষিন ভারতের রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী শহর বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।

২০১৫ সালের মার্চ মাসে এই ধৃত হাবিবুরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। তাকে পাকড়াও করার জন্য ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়েছিল এনআইএ-র পক্ষ থেকে। যাকে অবশেষে জালে ধরতে পারা গিয়েছে। হাবিবুরের গ্রেফতারিকে বিশেষ সাফল্য বলেই মনে করছে এনআইএ কর্তারা।

ধৃত ব্যক্তি জংগি সংগঠন জেএমবি-র সক্রিয় সদস্য। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বসে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত ছিল। খাগড়াগড় কাণ্ডের সকল ধৃত ব্যক্তিদের নেতৃত্ব দিয়েছিল এ হাবিবুর রহমান। বীরভূম জেলার বোলপুরে জেএমবি জঙ্গিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির চালাতো এই হাবিবুর।