কলকাতা: কিছুক্ষণের মধ্যেই আছড়ে পড়বে বুলবুল। বন্ধ রাখা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর। শনিবার সন্ধে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দর।

জানা গিয়েছে শনিবার সন্ধে ৬টা থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এই বিমানবন্দর। সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও বিমান উড়বে না বা অবতরণ করবে না এই বিমানবন্দরে।
উপকূল থেকে আর বেশি দূরে নেই বুলবুল। যে গতিতে ধেয়ে আসছে এই সাইক্লোন, তাতে ঘণ্টাখানেক লাগবে উপকূলে আছড়ে পড়তে। সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়বে এই ঝড়। প্রভাব পড়বে দীঘা, মন্দারমনি, বকখালি সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

এর মধ্যেই নবান্নের কন্ট্রোল রুম খুলে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই উপকূল থেকে কয়েক লক্ষ মানুষকে উপকূল এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে বিপর্যয় রুখতে প্রস্তুত রয়েছে কমব্যাট ফোর্স। তৈরি রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও। জানা গিয়েছে, গঙ্গাবক্ষে প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই মাইকিং করা শুরু হয়েছে। ছোট নৌকা নদী পারাপার নিয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি জারি হয়েছে। লঞ্চ, ফেরি সার্ভিস ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় ঘন্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে এই ঝড় কলকাতার উপর দিয়ে বয়ে যাবে। ফলে গাছ ভেঙে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে শহরে। শুধু তাই নয়, বহু পুরানো বাড়িও রয়েছে। তা নিয়েও বেশ চিন্তিত পুরসভা।

মধ্যরাতেই সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল। ইতিমধ্যে সেখানের মানুষজনকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ঝড় যে আসছে সেই আতঙ্কেই ঘুম উড়েছে সেখানকার মানুষজনের। অন্যদিকে, ঝড়ের প্রভাব পড়বে পূর্ব মেদিনীপুরেও। সেখানে ইতিমধ্যে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরস্থিতি যাতে মোকাবিলা করা যায় সেজন্যে প্রস্তুত প্রশাসন।

অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ক্রমশ বেশি শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উপর আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে, দুই চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দিঘা, মন্দারমণি, বকখালি, সাগরদ্বীপ, মৌসুনি দ্বীপ সহ রাজ্যের মোট সাতটি জেলায়। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’এর জেরে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে, সাতটি জেলার বিভিন্ন সরকারি এবং সরকার পোষিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি।