মুম্বই: জসপ্রীত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমারের মতো টিম ইন্ডিয়ার একঝাঁক তারকাকে আগামী আইপিএলে নাও দেখা যেতে পারে৷ বিরাট কোহলি চাইছেন না বলেই বিসিসিআইয়ের মিলিয়ন ডলার ক্রিকেট লিগ থেকে দূরে থাকতে হতে পারে তাদের৷ বিরাট নিজে অবশ্য আইপিএল এড়িয়ে যাওয়ার মুডে নেই৷

আসলে, বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় পেসারদের ফিট ও তরতাজা রাখতে আইপিএল থেকে তাদের সরিয়ে রাখতে চান অধিনায়ক কোহলি৷ আইপিএল খেললে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারদের চোট পাওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে, ঠিক তেমনই ঠাসা ক্রীড়াসূচি ও অল্প সময়ের ব্যবধানে এক শহর থেকে অন্য শহরে ঘুরে বেড়ানোর ক্লান্তি গ্রাস করতে পারে তাদের৷ একটানা ক্রিকেট খেলার ধকল ব্যাটসম্যানদের থেকে বোলারদের উপর প্রভাব ফেলে বেশি৷ কোহলি চান না ক্লান্তি সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় পেসাররা বিশ্বকাপ খেলতে যাক৷

আরও পড়ুন: অজি সফরে বিরাটদের পথের কাঁটা হতে পারেন স্মিথ-ওয়ার্নার

আইপিএল শুরু হবে আগামী বছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে৷ শেষ হবে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে৷ ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ শুরু হবে ঠিক তার পরেই৷ ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে আইসিসি ওয়ান ডে বিশ্বকাপ৷ ফলে আইপিএল খেলা ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপের জন্য জাতীয় দলে নির্বাচিত হলে এক সপ্তাহের বেশি বিশ্রাম পাবে না৷ গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আগে পেসারদের জন্য এটুকু সময় বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে হয়েছে কোহলির৷

ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার পর কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর্সের ডাকা বৈঠকেই কোহলি এমন পরিকল্পনার কথা জানান বিনোদ রাইদের৷ সিওএ গুরুত্ব সহকারে এমন প্রস্তাব বিবেচনা করলেও এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ শেষমেশ ভারতীয় ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে বোর্ডকে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে৷ তাছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ক্রিকেটারদের ছাড়তে রাজি হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে৷

আরও পড়ুন: ভারতকে সমর্থন না-করলে দেশ ছাড়ার পরামর্শ বিরাটের

সিওএ প্রধান ইতিমধ্যেই আইপিএলের চিফ অপারেটিং অফিসার হেমাং আমিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিষয়টি নিয়ে৷ আইপিএল সিওও পরামর্শ দিয়েছেন সময় থাকতে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের বিষয়টি জানিয়ে দিতে৷ অন্তত ১৫ নভেম্বর ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা কাদের পাওয়া যাবে না জানতে পারলে দল গুছিয়ে নিতে পারবে৷

শেষমেশ ফ্র্যাঞ্চাইজিরা বেঁকে বসলে আইপিএলের প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সরিয়ে রাখা হতে পারে ভারতীয় পেসারদের৷ ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আইপিএল খেলার অনুমতি দিয়েছে দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড৷ তার পর আইপিএল ছেড়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিতে হবে দু’দেশের ক্রিকেটারদের৷