ম্যাঞ্চেস্টার: নিউজিল্যান্ড আমাদের থেকে অনেক বেশি সাহসী ক্রিকেট উপহার দিয়েছে, যোগ্য দল হিসেবেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওরা। শেষ চার থেকে বিদায় নিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এমনটাই জানান ভারত অধিনায়ক। আর ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাট কোহলি জানালেন ‘৪৫ মিনিটের খারাপ ক্রিকেট’ টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিল আমাদের।

মঙ্গলবারের বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনাল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সম্পন্ন হল বুধবার। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৮ রানে হেরে ২০১৫’র পর ফের সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ ১৩০ কোটি দেশের। বোলারদের সৌজন্যে কিউয়িদের ২৩৯ রানে বেঁধে রেখেও হল না শেষরক্ষা। প্রথম সারির ব্যাটসম্যানদের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় ফাইনালের দোরগোড়ায় পৌঁছেও খালি হাতে ফিরতে হল দলকে। তাই ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দলনায়ক কোহলি জানালেন, ‘টুর্নামেন্ট থেকে তাঁর দল অনেক কিছু নিয়ে ফিরবে। কিন্তু সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাটসম্যানদের খারাপ শট সিলেকশনে হতাশ তিনি। জানালেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেও ৪৫ মিনিটের খারাপ ক্রিকেট যখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়, তখন খুব খারাপ লাগে।’

একইসঙ্গে কোহলি জানালেন, ‘নিউজিল্যান্ড যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে। ওরা আমাদের অনেক বেশি চাপে রেখেছিল।’ পাশাপাশি সেমিফাইনালে ব্যাটসম্যানদের শট সিলেকশনের ক্ষেত্রে আরও দক্ষ হওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে করেন ভারত অধিনায়ক। তবে টুর্নামেন্টে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করতে গিয়ে কোহলি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে আমরা যে লড়াইটা উপহার দিয়েছি তার জন্য গর্বিত। কিন্তু নক-আউট পর্যায়ে এসে যে কোনও দল বাজিমাত করতে প্রস্তুত। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে আজ অনেক বেশি সংযত ছিল। এই জয় ওদেরই প্রাপ্য।’

কিন্তু ৯২ রানে ৬ উইকেট খোয়ানোর পরেও জাদেজা-ধোনির ব্যাটে একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু শেষরক্ষা না হলেও ৫৯ বলে জাদেজার ৭৭ রানের ইতিবাচক ইনিংসকে এদিন প্রশংসায় ভরিয়ে দেন অধিনায়ক। তবে কোহলির কথায় কিউয়ি বোলাররা নিজেদের দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছে সেমিফাইনালে। ভারত অধিনায়কের কথায়, ‘যেভাবে সঠিক লাইন এবং লেংথে ওরা বল করে গিয়েছে, তাতে ওদের প্রশংসা প্রাপ্য।’

বিগ সেমিফাইনালে ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ১০০ রানের মধ্যে প্রথম সারির ৬ উইকেট হারিয়েও ধোনি-জাদেজার মহাকাব্যিক ইনিংসে একটু-একটু করে লর্ডসে ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল ‘মেন ইন ব্লু’। দুই ব্যাটসম্যানের জুটিতে একসময় ফাইনালের দোরগোড়াতেও পৌঁছে যায় তাঁরা। কিন্তু সেখান থেকি ফের চিত্রনাট্যে মোড় ঘোরে উত্তেজক সেমিফাইনালের।

জুটিতে ১১৬ রানের অবদান রেখে ব্যক্তিগত ৫৯ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে যখন আউট হন জাদেজা, ভারতের তখন প্রয়োজন ১৩ বলে ৩২। ভারতীয় শিবিরে আশা-ভরসা সমস্তকিছু তখন ধোনি-কেন্দ্রিক। ৪৮ তম ওভারের প্রথম বলে ফার্গুসনের ডেলিভারি গ্যালারিতে পাঠালেও তৃতীয় বলে ২ রান নিতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন মাহি। গাপ্তিলের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরতে হয় ধোনিকে। ওখানেই শেষ হয়ে যায় ভারতের সব আশা। এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩ রান যোগ করে বাকি ৩ উইকেট খুঁইয়ে বসে ভারত। ১৮ রানে ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে কিউয়িরা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব