কলকাতা: দেশের মাটিতে তো বটেই আন্তর্জাতিক টেস্ট ফর্ম্যাটেও শুক্রবার পিঙ্ক বল টেস্টে হাতেখড়ি হচ্ছে বিশ্বের পয়লা নম্বর টেস্ট দলের। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে প্রতিবেশী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম দিন-রাতের ম্যাচ খেলতে নামছে বিরাটবাহিনী। দেশের মাটিতে এই ম্যাচ খেলার জন্য ভারত অধিনায়ক মিনিটকয়েক সময় নিলেও অতীতে পিঙ্ক বল টেস্টের স্বাদ নিতে অস্বীকার করেছিল ভারতীয় দল। গতবছর অস্ট্রেলিয়া সফরে অ্যাডিলেড টেস্ট প্রাথমিকভাবে দিন-রাতের আয়োজন করার কথা থাকলেও ভারতীয় দলের তাতে সায় ছিল না।

কিন্তু ইডেনে ঐতিহাসিক দিন-রাতের টেস্টের মাধ্যমে পালটাচ্ছে পরিস্থিতি। শুধুমাত্র ট্র্যাডিশনাল রেড বল নয়, বিদেশ সফরেও এবার পিঙ্ক বলে টেস্ট ম্যাচ খেলতে আগ্রহী ভারতীয় দল। তবে সেক্ষেত্রে পিঙ্ক বলে একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ আবশ্যক। প্রথম দিন-রাতের টেস্টে মাঠে নামার আগেরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ২০১৮-১৯ অস্ট্রেলিয়া সফরে দিন-রাতের টেস্ট খেলার ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রসঙ্গে ভারত অধিনায়ক জানিয়েছেন, ওটা আচমকা একটি ঘটনা ছিল। পিঙ্ক বল টেস্ট খেলার আগে প্রত্যেক দলের অন্তত একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলা উচিৎ।

বিরাটের কথায়, ‘নিঃসন্দেহে আমরা প্রত্যেকেই পিঙ্ক বল ক্রিকেটের স্বাদ পেতে চাই। কিন্তু বড় কোনও সফরের আগে হঠাৎ করে সূচীতে পিঙ্ক বলের অন্তর্ভুক্তি বাঞ্ছনীয় নয়। ওখানে কোনও প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা ছিল না। তাছাড়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও পিঙ্ক বলের অভিজ্ঞতা তখন দলের ক্রিকেটারদের ছিল না।’ বিরাটের কথায়, ‘সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়া এটা সম্ভব নয়।’ উল্লেখ্য, নবম টেস্ট খেলিয়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পিঙ্ক বল টেস্টে অভিষেক হতে চলেছে ভারতের। উলটোদিকে বাংলাদেশেরও এটাই পিঙ্ক বল টেস্টের প্রথম অভিজ্ঞতা।

অস্ট্রেলিয়া সফরে পিঙ্ক বল খেলতে না চাওয়া প্রসঙ্গে বিরাটের আরও সংযোজন, ‘হাতে এক সপ্তাহের কম সময় নিয়ে পিঙ্ক বল টেস্ট খেলার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। অন্ততপক্ষে পিঙ্ক বলে কয়েকদিনের আলাদা প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল। একবার ধাতস্থ হয়ে গেলে আর কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সফরে বিষয়টি হঠকারিতা ছিল।’ পাশাপাশি ইডেনে প্রথম পিঙ্ক বল টেস্ট খেলতে যে মুখিয়ে রয়েছেন, সেকথা এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে আরও একবার মনে করিয়ে দেন বিরাট।

অধিনায়কের কথায়, ‘পিঙ্ক বল টেস্ট আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জও বটে। তবে আমরা প্রত্যেকেই উত্তেজিত এবং প্রত্যেকের এনার্জি এইমুহূর্তে তুঙ্গে। এককথায় এটা একটা মাহেন্দ্রক্ষণ।’ তবে ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পিঙ্ক বলে ক্রিকেটাররা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করেন ভারত অধিনায়ক। স্লিপ ক্যাচিংয়ের ক্ষেত্রে পিঙ্ক বল অনেক জোরে হাতে এসে আঘাত করে। এছাড়া বাউন্ডারি থেকে থ্রো ধরার সময়েও দলের ফিল্ডারদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান বিরাট।