সাউদাম্পটন: ২৯ তম ওভারে আফগান শিবিরে বুমরাহর জোড়া ধাক্কা যার মধুরেণ সমাপয়েৎ অন্তিম ওভারে শামির হ্যাটট্রিকে। ২২৪ রানের মত স্বল্প রানের পুঁজি নিয়েও দলের জয়ে আশ্বস্ত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তবে আফগানদের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টে প্রথমবার হারের ভ্রুকুটি পদে পদে অনুভব করেছে তাঁর দল। ম্যাচ জয়ের পর সরল স্বীকারোক্তি ভারতীয় দলনায়কের।

৬৩ বলে তাঁর ৬৭ রানের ইনিংসকে প্ল্যাটফর্ম করে লিগ টেবিলে সবার নীচে থাকা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শনিবার ২২৪ রান তুলতে সমর্থ হয় ভারতীয় দল। কিন্তু রহমত-হাসমাতুল্লাহ জুটিতে ভর করে একসময় যখন ভারতের মুখের গ্রাস কেড়ে নিতে উদ্যত হয়েছিল আফগানরা, ঠিক সেসময় টুর্নামেন্টে প্রথমবার নিজেদের উপর বিশ্বাস হারাতে বসেছিল দল। ম্যাচ জয়ের পর জানালেন বিরাট কোহলি। উল্লেখ্য, তৃতীয় উইকেটে এই দুই আফগান ব্যাটসম্যানের জুটি এবং শেষদিকে নিজেকে দক্ষতার শীর্ষে নিয়ে গিয়ে মহম্মদ নবির প্রয়াসী ব্যাটিং পারফরম্যান্সেও শেষরক্ষা হয়নি। অন্তিম ওভারে আফগানদের জয়ের জন্য ১৬ রান প্রয়োজন থাকলেও শামির হ্যাটট্রিকে ১১ রানে থ্রিলার জয় তুলে নেয় ‘মেন ইন ব্লু’।

আরও পড়ুন: বাংলার প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বকাপের এলিট ক্লাবে শামি

তাই আফগান বাধা টপকে ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই জয়কে ‘স্মরণীয়’ জয় আখ্যা দেন বিরাট কোহলি। একইসঙ্গে তিনি জানান, ‘এমন পরিণতিই প্রত্যাশিত ছিল। টস জিতে মন্থর উইকেট দেখেই মনে হয়েছিল ২৬০-২৭০ রান খুব ভালো স্কোর হবে।’ কোহলির কথায়, ‘আফগানিস্তান ইনিংসের মাঝপথে এসে দলের বিশ্বাস আলগা হতে শুরু করে। তবে ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাস আমাদের সঙ্গে ছিল।’ অর্থাৎ ভারত অধিনায়কের কথাতেই স্পষ্ট প্রয়োজনের তুলনায় ৩০-৩৫ রান কম ওঠায় একসময় আফগানিস্তান টুর্নামেন্টে প্রথমবার ভারতীয় দলের কাছে ‘রিয়েল থ্রেট’ হয়ে দেখা দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘ট্র্যাজিক হিরো’ ব্রাথওয়েট, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় নিউজিল্যান্ডের

পাশাপাশি আফগান স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের ব্যাটিং নিয়ে বলতে গিয়ে টানা তিন ম্যাচে অর্ধশতরানকারী বিরাট জানান, ‘মাঠে প্রবেশ করেই পিচের চরিত্র বুঝতে পেরে গিয়েছিলাম। ক্রস ব্যাট নয় বরং এই পিচে অনেক বেশি মাটি ঘেঁষা শট নেওয়া প্রয়োজন ছিল।’ সেইসঙ্গে আফগানিস্তান দলে প্রথম সারির তিন রিস্ট-স্পিনারের উপস্থিতি ব্যাটসম্যানদের কাজটা অনেক কঠিন করে তুলেছিল।’

যাইহোক, শামি-বুমরাহ যুগলবন্দিতে মাত্র ২২৪ রানের পুঁজি নিয়ে এই জয় লিগ টেবিলে তিন নম্বরে পৌঁছে দিল টিম ইন্ডিয়াকে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে দলের ৫০ তম নজির জয়ের সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে যুক্ত হল মহম্মদ শামির হ্যাটট্রিক। চোটে কাবু ভুবনেশ্বর কুমারের পরিবর্ত হিসেবে চলতি বশ্বকাপের প্রথম সুযোগেই বাজিমাত। চেতন শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় বোলার হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শামির হ্যাটট্রিক নিঃসন্দেহে যেন উপরি পাওনা হয়ে রইল দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের জন্য।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব