কলকাতা: একশো শতাংশ ফিট না থাকার কারণে শুক্রবার সন্ধেয় ডি’ভিলিয়ার্সকে বাইরে রেখেই নাইটদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স। লিগ টেবিলে যা অবস্থান, তাতে বাকি সবক’টি ম্যাচ জিতলে খাতায়-কলমে প্লে-অফে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে আরসিবি’র সামনে। তাই ইডেনে এদিন কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল কোহলিদের কাছে ‘ডু অর ডাই’। আর ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ ১০ রানে জিতে বাজিমাত কোহলি অ্যান্ড কোম্পানির।

এদিন মাঠে নামার আগে টিম হোটেলে সতীর্থ এবি ডি’ভিলিয়ার্সকে ইডেনে শতরান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এবিডি’র না থাকাটা ব্যাঙ্গালোর ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে ছিল রিয়েল চ্যালেঞ্জ। তাই প্রোটিয়া সতীর্থের জন্যই এদিন মাঠে নেমে শতরান করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন বিরাট। মাঠে নেমে রাখলেন সেই কথা। আইপিএলে কাপ্তান কোহলির পঞ্চম শতরান ও মইন আলির বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ইডেনে এদিন নাইটদের ২১৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দেয় আরসিবি।

আরও পড়ুন: দুঃস্বপ্নের ওভার শেষে মাঠেই কেঁদে ফেললেন কুলদীপ

হোটেল ছাড়ার আগে কথা দিয়েছিলেন, মাঠে নেমে ৫৮ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে সেই কথা রাখায় কোহলিতে আপ্লুত এবিডি প্রথম ইনিংস শেষের কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইট করেন অধিনায়ককে নিয়ে। সেখানে তাঁকে ‘লিটল বিস্কুট’ সম্বোধন করে বিরাটের ইনিংসকে ‘সেরা ইনিংস’ আখ্যা দেন মিঃ ৩৬০। কোহলিও শতরানের পর স্বীকার করে নেন হোটেল ছাড়ার আগে ‘বন্ধু’ এবিডি’র কাছে শতরান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: কাজে এল না রাসেল ‘ঝড়’, উত্তেজক ম্যাচে ১০ রানে হার নাইটদের

প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানের সঙ্গে জুটি বেঁধে আইপিএলে একাধিকবার বোলারদের রাতের ঘুম কাড়লেও শুক্রবার কোহলিকে নামতে হয়েছিল তাঁর বিশ্বস্ত পার্টনারকে ছাড়াই। কিন্তু পার্টনারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনও হেরফের হতে দেননি আইপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শতরানের মালিক। পাশাপাশি ম্যাচ শেষে অল-রাউন্ডার মইন আলিকেও প্রশংসায় ভরিয়ে দেন দলনায়ক। কোহলি জানান, ‘মন্থর শুরুর পরেও মইনের হাত ধরে খেলার গতিপ্রকৃতি বদলে যায়। ও আমাকে নিজের খেলা খেলতে সাহায্য করে।’

আরও পড়ুন: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কাউন্টিতে পূজারা-পৃথ্বীরা

ঘরের মাঠে ২০৫ রান তুলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিন্তু নাইটদের ডেরায় এসে তাদের হারিয়ে টুর্নামেন্টে এদিন দ্বিতীয় জয় পেল দল। উচ্ছ্বসিত কোহলি তাই ম্যাচ শেষে জানান, ‘ইডেনে এসে জয় তুলে নেওয়া ভীষণই অর্থবহ। শেষদিকে বোলারদের উপরেই ম্যাচের রাশ ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয় ১৯ তম ওভারে স্টোওনিসের শেষ তিনটি বল গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ ওভারে মইনও তাঁর ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে।’