নয়াদিল্লি: শোকের আবহে স্তম্ভিত আসমুদ্র হিমাচল। কলকাতা থেকে নয়াদিল্লি দোষীদের শাস্তি চেয়ে প্রতিবাদে সরব। হায়দরাবাদে পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের পর মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। ঘটনার বিবরণ শুনে আঁতকে উঠেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। গোটা ঘটনাটিকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে নিজেদেরই এমন ঘটনা প্রতিকারে এগিয়ে আসার ডাক দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয়।

হায়দরাবাদের মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষোভের আগুনে যখন ফুঁসছে গোটা দেশ, তখন টুইটারে বিরাট লিখলেন, ‘হায়দরাবাদে যা ঘটেছে তা এককথায় লজ্জাজনক। সমাজের মুখ হিসেবে নিজেদেরই এমন অমানবিক ট্র্যাজেডি প্রতিকারে এগিয়ে আসতে হবে।’ শুধু বিরাট নন, হায়দরাবাদের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের বাঁ-হাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান, প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীরও।

টুইটারে ধাওয়ান লেখেন, ‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। এমন খবর শুনে হতবাক। দোষীদের অবশ্যই শাস্তি হোক। মৃতার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি আমাদের সমবেদনা।’ মর্মান্তিক এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ অভিহিত করেছেন গম্ভীরও। এছাড়াও মাইক্রোব্লগিং সাইটে ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে দোষীদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন অমিত মিশ্র, প্রজ্ঞান ওঝারা।

বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের অনতিদূরে শাদনগরে তরুণী চিকিৎসকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে ওই তরুণীকে খুন করা হয় প্রথমে। তার পর তাঁর দেহ পোড়ানো হয়। শনিবার এই ধর্ষণকাণ্ডে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে হায়দরাবাদ পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান পরিকল্পনা মাফিক ওই তরুণীকে শিকার বানানোর ছক কষা হয়। এই ছক কষা হয়েছিল ঘণ্টা তিনেক আগে। সেই মতো পশু-চিকিৎসক তরুণীর স্কুটারের চাকা ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল, সারিয়ে দেওয়ার নাম করে সেই স্কুটার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে পর পর চার জন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে খুন করে পেট্রল-ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেহ।

তেলেঙ্গানায় গত বুধবারের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। শনিবার ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চার জনই ট্রাকের কর্মী।

এই প্রতিবাদের আঁচ আছড়ে পড়ে রাজধানী দিল্লিতেও। বছর কুড়ির এক তরুণী অনু দুবেকে দেখা যায় শনিবার সংসদ চত্বরে ‘হোয়াই আই কান্ট ফিল সেফ ইন মাই অউন ভারত’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে ফুটপাথে বসে থাকতে। তাঁকে এই অভিনব প্রতিবাদ করতে দেখা যায় সংসদের ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর গেটে ।

অন্য দিকে, হায়দরাবাদের এই ঘটনার প্রতিবাদের আঁচ এসে পৌঁছোয় কলকাতার বুকেও। তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে হত্যা এই নির্মম ঘটনায় পথে নামে নাগরিক সমাজ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল হয়। দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে সামিল হন বহু মানুষ। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারী এক তরুণী জানান, ‘পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। উন্নত শহরেও মহিলারা সুরক্ষিত নয় এটা সবথেকে বড় লজ্জার।’