বেঙ্গালুরু: আইপিএল ভাগ্য বরাবরই খারাপ বিরাট কোহলির৷ দেশের জার্সিতে নেতৃত্ব দিয়ে সাফল্য পেয়েছেন৷ কিন্তু আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের জার্সিতে সাফল্যের ভাঁড়ার শূন্য বিরাটের৷ দ্বাদশ আইপিএলেও সেই শূন্যতা ভরাট হওয়ার সম্ভাবনাও কম৷ টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে লিগ টেবলে ‘লাস্ট বয়’ কোহলির রয়্যালবাহিনী৷ শুক্রবার ঘরের মাঠে কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ২০৫ রান তুলেও হার হজম করায় চূড়ান্ত হতাশ ক্যাপ্টেন কোহলি৷

চিন্নাস্বামীতে প্রথম ব্যাটিং করে বিরাট ও এবিডি জুটিতে নাইটদের সামনে ২০৬ রানে টার্গেট দিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স৷ রান তাড়া করতে নেমে নাইটদের শুরুটা মন্দ না-হলেও তার পর কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে জাঁকিয়ে বসেছিল বিরাটরা৷ কিন্তু সেখান থেকেও ছন্দপতন৷ শেষ চার ওভারে নাইটদের জেতার জন্য দরকার ছিল ৬৬ রান৷ টি-২০ যুগেও ২৪ বলে ৬৬ রান তোলাও দুষ্কর৷ কিন্তু রাসেল ম্যাজিকে তা সম্ভব করে কেকেআর৷ ৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা নাইটরাইডার্স৷

মুলত রাসেলের কাছে হার হজম করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স৷ মাত্র ১৩ বলে সাত ছক্কা ও একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে বিরাটদের স্বপ্নভঙ করেন নাইটদের এই ‘ক্যারিবিয়ান দৈত্য’৷ শেষ ২ ওভারে নাইটদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩০ রান৷ কিন্তু ১৯তম ওভারে টিম সাউদিকে ২৯ রান নিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন রাসলে৷ পাঁচ বল বাকি থাকতেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় কেকেআর৷ সাউদির ওভারে চার ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি মারেন রাসেল৷ প্রথম চার বল খেলে মাত্র এক রান করা রাসেল বাকি ৯ বলে করেন ৪৭ রান৷

ম্যাচ শেষে তাই বিরাটের গলায় হতাশার সুর৷ রয়্যাল অধিনায়ক বলেন, ‘শেষ চার ওভারে আমরা যা বল করেছি, তাতে আমাদের হারায় সম্ভব৷ এটা মেনে নেওয়া যায় না৷ ক্রঞ্চ ওভারে নার্ভ ঠিক রেখে বল করতে না-পারলে জেতার আশা করা বৃথা৷ তাহলে তো রাসেলের মতো পাওয়ার হিটারের কাছে হার মানতেই হবে৷ এমনটাা হলে শেষ চারে ওভারে ৭৫ রানও যথেষ্ট নয়৷ জানি না, ১০০ রান সেভ কিনা৷ এটা আমাদের কাছে হতাশাজনক মরশুম৷’

অথচ দিনের শুরুটা ছিল বিরাটদের৷ ওপেনিং জুটিতে বিরাট ও পার্থিব প্যাটেল ৬৪ রান যোগ করার পর এবিডি-র সঙ্গে ১০৮ রান যোগ করে দলকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছে দেন ক্যাপ্টেন৷ ৪৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট৷ আর এবিডি করে ৩২ বলে ৬৩ রান৷ তার পর স্টওনিস ১৩ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন৷

দল হারলেও এদিন ব্যক্তিগত মাইলস্টোনে পৌঁছন কোহলি৷ ব্যক্তিগত ৬১ রানে পৌঁছতেই সুরেশ রায়নাকে টপকে আইপিএলে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন বিরাট৷ ১৬০ ইনিংসে কোহলির রান ৫,১১০ রান৷ গড় ৩৮.২৪৷ আইপিএলে রায়নাকে টপকে গেলেও টি-২০ ফর্ম্যাটে অবশ্য রায়নার পিছনে রয়েছেন কোহলি৷ তবে টি-২০ ফর্ম্যাটে এদিন ৮০০০ রানের গণ্ডি টপকে যান বিরাট৷