নয়াদিল্লি: তিনি মাস্টার ব্লাস্টার। ব্যাট হাতে টিম ইন্ডিয়ার বহু যুদ্ধের সেনানী। ঈর্ষনীয় কেরিয়ারে ব্যাটিং রেকর্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ নিজের নামে করলেও বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ১০০টি শতরানের মালিককে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২০১১ পর্যন্ত।

সচিনোত্তর ভারতীয় ক্রিকেটে তেমনই ব্যাটিং লাইন-আপের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন বিরাট কোহলি। ভারত অধিনায়কের ব্যাটিং দেখে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন ক্রিকেট মায়েস্ত্রো সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের রেকর্ড বিরাটের কাছে মোটেই নিরাপদ নয়। সবমিলিয়ে কোহলিকে সামনের সারিতে রেখেই ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে ‘মেন ইন ব্লু’। কিন্তু মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরের মতে সতীর্থদের পর্যাপ্ত সহযোগীতা না পেলে বিরাটের একার পক্ষে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ খেলতে লন্ডনের বিমান ধরল টিম ইন্ডিয়া

বুধবার ভোরেই বিশ্বকাপ খেলতে ইংল্যান্ড উড়ে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। আর ঠিক এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে রাখলেন ব্যাটিং কিংবদন্তি। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, একা কারোও পক্ষে কোনও টুর্নামেন্ট জেতানো সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আসন্ন বিশ্বকাপে কোহলির সতীর্থদেরও খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিলেন ছোটে নবাব।

সচিনের মতে, ‘প্রত্যেক ম্যাচে হয়তো দেখা যাবে দলের দু’জন ক্রিকেটার তাদের ব্যক্তিগত মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছে। কিন্তু দলের সহযোগীতা ছাড়া খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয় না। তার কারণ কারও একার পক্ষে কোনও টুর্নামেন্ট জেতানো সম্ভব নয়। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের বাকিরা নিজেদের প্রমাণ না করতে পারলে সাফল্য আসবে না। উলটে বাড়বে হতাশা।’

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে ‘বিরাট’ লক্ষ্য আর্চারের

পাশাপাশি ভারতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডারে চার নম্বর পজিশন নিয়েও উদ্বিগ্ন মাস্টার-ব্লাস্টার। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন বুঝেই চার নম্বর পজিশনকে ব্যবহার করার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভারতীয় বোলিংয়ের দুই প্রধান শক্তি তাদের দুই রিস্ট স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল ও কুলদীপ যাদব, জানালেন তেন্ডুলকর।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাছে কুল-চা জুটি খুব একটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে না পারলেও দলের এই দুই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে আশাবাদী সচিন জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। সচিনের মতে, ‘বিশ্বে এমন অনেক বোলার আছে যাদের বুঝতে বিপক্ষের খুব একটা অসুবিধা না হলেও উইকেট শিকার করাই তাদের কাছে শেষ কথা। কুলদীপ-চাহালও তেমনই। সুতরাং অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে বেশি ভাবার কিছু নেই।’

আরও পড়ুন: স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিবাচক প্রস্তুতি শ্রীলঙ্কার

একইসঙ্গে ব্যাটিং মায়েস্ত্রোর সংযোজন, ‘গত সিরিজে অজি ব্যাটসম্যানরা ভুল করেনি মানে এই নয় যে তারা আর ভুল করবে না কিংবা তাদের ভুল করাতে বাধ্য করা হবে না।’