স্টাফ রিপোর্টার, সোনারপুর: সাজানো-গোছানো হয়ে গিয়েছে৷ অনেকেই আশা করেছিলেন সুভাষের ১২৪ তম জন্মদিনে তাঁর বাড়ির অন্দরমহল ঘুরে দেখবেন৷ কিন্তু সেই আশা পূরণ হল না৷ একরাশ আক্ষেপ নিয়ে বাইরে থেকে ছবি তুলেই ফিরতে হল দর্শনার্থীদের৷

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কোদালিয়ার সুভাষচন্দ্র বসুর পদধূলি ধন্য পৈতৃক ভিটের সামনে স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ভিড়। বুধবার জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ আসে এই হেরিটেজ বাড়ি দর্শনে। তাদের মধ্যে স্থানীয় অনেকেও ছিলেন। বাড়িটি সামনে দাঁড়িয়ে দেদার সেলফি উঠল৷ এদিন সাংসদ হওয়ার পর প্রথমবার কোদালিয়ায় সুভাষচন্দ্র বসুর বাড়িতে এলেন যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী৷  তিনি জানিয়েছেন, পর্যটকরা যাতে এখানে এসে থাকতে পারেন ও অন্যান্য পরিষেবা পান তার ব্যবস্থা করা হবে৷

এদিন নেতাজির পৈতৃক ভিটের দরজা আমজনতার খুলে দেওয়ার কথা ছিল৷ এই বাড়িতে ১৮৬০ সালের ২৮ মে জন্ম হয় সুভাষ বসুর বাবা জানকীনাথ বসুর। পরবর্তী সময়ে তিনি স্ত্রী প্রভাবতী দেবীকে নিয়ে কটক চলে যান। তবে প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় জানকীনাথ বসু সস্ত্রীক কোদালিয়াতে আসতেন। সেই সময় সুভাষ বসুও বাবা-মায়ের সঙ্গে এই বাড়িতে এসেছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ও ওই বাড়িতে এসে রাতও কাটিয়ে গিয়েছেন সুভাষ।

ওই বাড়িতে সুভাষ বসুর ব্যবহৃত চায়ের কাপ থেকে জল খাওয়ার গ্লাস, খাট, বিছানা এখনও অক্ষত রয়েছে। বাড়িটি সংস্কারের অভাবে ভগ্নদশা হয়ে গিয়েছিল। সুভাষ বসু দোতলায় যে ঘরটিতে উঠতেন, তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাড়িটির সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ থাকাকালীন এসেছিলেন কোদালিয়াতে৷ নিজের সাংসদ তহবিল থেকে প্রায় চাল লক্ষ টাকা তিনি দিয়েছিলেন নেতাজি বাড়ির পাশে একটি লাইব্রেরি তৈরির জন্য৷

কিন্ত্ত নেতাজির পৈতৃক ভিটের উন্নয়ন অবশ্য শেষ পর্যন্ত হয়নি৷ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের চলে আসেন কোদালিয়ার এই বাড়িটিতে৷ নেতাজির বাড়ির সংস্কারের ঘোষণা করে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে যান যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিকল্পনা জমা দেওয়ার জন্য৷ সংস্কার হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এদিন সাধারণ মানুষের জন্য দরজা খোলা হল না৷ কবে দরজা খোলা হবে তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের কেউই কিছু বলতে পারছে না৷

রাজপুর-সোনারপুর পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়িটি সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পূর্ত বিভাগকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এখনও হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে পুরসভা কিছু বলতে পারবে না। তবে সুভাষ বসুর নামে পুরসভায় মিউটেশন করা জমিটি মানুষ ঘুরে দেখতে পারে। তা সাজানো হয়েছে। ২৩ জানুয়ারি ওই সাজানো জায়গাটি খুলে দেওয়া হবে পুরসভার পক্ষ থেকে৷ বারুইপুর মহকুমা শাসক দেবারতি সরকার বলেন, ওটা খুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি। কারণ, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বিষয়টি সরাসরি দেখছে। বারুইপুর মহকুমা পূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক আগে কাজ শেষ হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সংস্কার হয়েছে এই বাড়ির। ভিটের একতলায় তৈরি হয়েছে গেস্ট হাউস যাতে বাইরের পর্যটকরা এলে রাতযাপন করতে পারে। সাজানো হচ্ছে পাঠাগার, মিউজিয়াম। নতুন প্রজন্ম ও নেতাজি অনুরাগিদের কাছে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন ক্ষেত্র হিসাবে গড়ে উঠতে চলেছে এই কোদালিয়ার এই বসু বাড়ি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নেতাজির জন্মদিনেও তাঁর বাড়ি ঘুরে দেখতে পারলেন না সাধারণ মানুষ৷