বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে মুসলিমদের পবিত্র উৎসব ইদে মিলাদ-উন-নবী। বুধবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিমরা এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন। চলছে বিশেষ প্রার্থনাও। আসলে এই দিনেই শেষ নবী তথা ইসলাম হজরত মহম্মদ জন্মগ্রহণ করেন। আবার মাত্র ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন।

১ হাজার ৪৪৮ বছর আগের এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন হজরত মহম্মদ।

ইসলামিক ক্যালেন্ডারের তৃতীয় মাসে এই দিন পালিত হয়। এবছরের ২১ নভেম্বর সেই দিন উদযাপিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, কানাডা, ইউকে, নাইজেরিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, রাশিয়ার মত বিভিন্ন দেশে এই দিন পালন করা হয়। মুসলিম দেশগুলিতে এটি জাতীয় ছুটিত দিন হিসেবে গণ্য হয়।

সাধারণত এই দিনে মিছিল বেরোয় রাস্তায়। সাজানো হয় মসজিদ। সেখানে বহু মানুষ ভিড় করেন। প্রার্থনা করেন তাঁরা। অনেকেই বাড়ি সাজিয়ে তোলেন আলোয়। কোথাও কোথাও খাদ্য বা বস্ত্র বিতরণের মত কর্মসূচী নেওয়া হয়। মসজিদে মসজিদে হজরত মহম্মদের জীবনের কাহিনী শোনানো হয়।

মিলাদ-উন-নবী পালনের ইতিহাস শুরু হয় তাবেঈন দের যুগ থেকে। এ সময়ে কিছু তাবেইন এই দিন উপলক্ষ্যে জমায়েত হয়ে নবী মহম্মদের সম্মানে কবিতা আবৃত্তি করতো ও গান গাইতো। ১৫৮৮ সালে অটোমান শাসকেরা দিনটিতে অফিশিয়াল ছুটি ঘোষণা করে যা মেভলিদ কান্দিল নামে পরিচিত। মিশর শহর পৃথিবীর অনেক অংশে সুফি সাধুদের জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানকেও মেভ্লিদ কান্দিল বলা হয়।

ইসলামের প্রায় অধিকাংশ শাখা নবী মুহাম্মাদের জন্মদিন পালনের স্বীকৃতি দিলেও ওয়াহাবী/সালাফি এবং দেওবন্দী তরীকা সহ কিছু শাখা জন্মোৎসব পালনকে অস্বীকার করে একে বিদাত হিসেবে ঘোষণা করে।