পরিশ্রম করতে কার ভালো লাগে? প্রত্যেক দিন সকালে উঠে ব্যায়ামের কথা ভাবতেই অনেকের গায়ে বিরক্তিকর লাগে। এর থেকে শুয়ে শুয়ে পছন্দের বই পড়া বা টিভি দেখা অনেক ভালো। এমনটা আমাদের ধারণা। কিন্তু ব্যায়াম করা বা শরীরটা একটু ঘামিয়ে দেয়া যতই অপছন্দের হোক না কেন সুস্থ থাকতে এর জুড়ি মেলা ভার। আর ওয়ার্কআউট যদি একান্তই ভালো না লাগে সেক্ষেত্রে যোগাসন তো আছেই।

বহু প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষে যোগ চর্চা করা হয়। যদিও ভারতবর্ষেই অধিকাংশ মানুষ যোগ চর্চা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন এবং ভবিষ্যতে নানারকম শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হন।

যোগ/যোগা কী?

যোগ হলো এক জীবন দর্শন, যোগ হলো আত্মানুশাসন, যোগ হলো এক জীবনপদ্ধতি, যোগ হলো ব্যাধিমুক্ত এবং সমাধিযুক্ত জীবনের সঙ্কল্পনা। যোগ আত্মোপচার এবং আত্মদর্শনের শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক বিদ্যা। যোগ ব্যক্তিত্বকে বামন থেকে বিরাট বানানো বা সমগ্র রূপে নিজেকে রূপান্তরিত ও বিকশিত করার আধ্যাত্মিক বিদ্যা।

যোগ শুধু এক বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিই নয়; বরং যোগের প্রয়োগ পরিণামের ওপর আধারিত এক এমন প্রমাণ যা ব্যাধিকে নির্মূল করে। অতএব এটি এক সম্পূর্ণ বিধাতাপ্রদত্ত দেয়া শরীরেরই নয়, সব মানসিক রোগেরও চিকিৎসাশাস্ত্র।

যোগের ইতিহাস

“যোগ”, এই শব্দটা সংস্কৃত শব্দ ‘ইউয্‌’ থেকে এসেছে যার মানে হল একত্রিত; আত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগ। পতঞ্জলির সংঞ্জানুসারে, “যোগ” মানে হল মনের পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করা। বিভিন্ন ধরণের যোগ থাকলেও, প্রত্যেক ধরণের যোগের উদ্দেশ্য হল মনকে নিয়ন্ত্রণ বা বশ করা।

যোগ সম্পর্কিত যে ধারণা (বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গিমা ও আসন) বর্তমানে সারা পৃথিবীর নজর কেড়েছে তা সুপ্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার সময় থেকেই প্রচলিত ছিল। তখন থেকেই এটা অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে এবং এখন আমরা যাকে যোগাভ্যাস বলে জানি, তা প্রকৃত যোগাভ্যাসের থেকে অনেকটাই আলাদা।

যোগাসন কেন করবেন?

শরীরের সঙ্গে মনের সংযোগ ঘটিয়ে আত্মিক উন্নতি ও শরীরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যোগাসনের বিকল্প নেই। যোগ শব্দের অর্থ দেহ ও মনের প্রগাড় সংযোগ বা ঐকান্তিক মিলন। ঋষি যাজ্ঞবল্ক্য জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার (নফস ও রুহুর মিলন) যোগ বা মিলনকে যোগ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সুস্বাস্থ্যের উদ্দেশ্যে বিধিসম্মতভাবে অঙ্গ সঞ্চালনই ব্যায়াম। নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষেরই সুস্থ থাকার জন্য কিছু না কিছু যোগ ব্যায়াম করা দরকার । বলতে হয়, ‘সুষম খাদ্য খাও, যোগাসন কর, লাইফ স্টাইল পাল্টাও, টেনশন (স্ট্রেস্) মুক্ত জীবনযাপন কর।’ টেনশন বা স্ট্রেস্ থেকে মানুষের যে কত রোগ হতে পারে এবং আয়ু কমে যেতে পারে আধুনিক বিজ্ঞানীরা তা অনেকভাবে দেখিয়েছেন।

যোগাসনকে অনেকে যোগ ব্যায়াম বলেন। আসন আর ব্যায়ামে কিছুটা পার্থক্য আছে। ব্যায়াম হচ্ছে খেলাধুলা, সাঁতারকাটা, হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, জিম, এ্যাক্রোবিক ইত্যাদি। খালি হাতে ব্যায়াম করা যায় আবার যন্ত্রযোগেও ব্যায়াম করা হয়। এর মাধ্যমে অঙ্গ সঞ্চালন হয় বটে। এতে যেমন দ্রুতি আছে তেমন শারীরিক পরিশ্রমও আছে।

বলা হয়, জগিংয়ে দশভাগ উপকার হয়, টেনিস খেলায় হয় পনেরো ভাগ, সাঁতারে হয় পনেরো ভাগ। কেবল যোগাসনের মাধ্যমে এক শ’ ভাগ উপকারিতা পাওয়া যায়।

যোগাসন ছাড়া এমন কোন ব্যায়াম নেই যাতে শরীরের অস্থি সন্ধিতে এবং ফুসফুস, প্লীহা, পাকস্থলী, মূত্রথলী, যকৃৎ, বৃক্ক ইত্যাদি অন্ত্রে ভালভাবে রক্ত সঞ্চালন হতে পারে। যোগাসন ছাড়া এমন কোন ব্যায়াম নেই, যাতে মেরুদণ্ডে আড়াআড়ি আর লম্বালম্বী চাপ পড়তে পারে এবং মেরুদণ্ড দুইদিকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। যোগাসন শরীরের প্রয়োজনীয় গ্রন্থিগুলোকে অধিক সতেজ ও সক্রিয় করে তোলে। তাই যোগাসনকেই সর্বোত্তম বলে ধরা হয়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।