সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ভারতের স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট। কিন্তু ১৫ আগস্টই কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস? অদ্ভুত এক কারণ লুকিয়ে আছে এর অন্দরে। লুকিয়ে রয়েছে সেই ব্রিটিশ সাফল্যই। অত্যন্ত কুরুচিকর মনে হলেও ইতিহাস এমন কিছু কথা বলে যায় যা কোনওদিন চাইলেও পরিবর্তন করা যায় না। যেমন ভারতের স্বাধীনতার দিন।

ইতিহাস বলছে, লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে যখন ভারতের স্বাধীনতার দিন ঠিক করতে বলা হয় তখন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের ঘরে বসে রেডিও মারফৎ শোনা জাপানের আত্মসমর্পণের দিনটার কথাই নাকি সবার প্রথম তাঁর মাথায় আসে। এরপর ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই, মাউন্টব্যাটেন ১৫ই আগস্ট দিনটির কথা ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সে পেশ করেন। সেখানে তিনি জানান, “ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দিন শেষ, ১৫ই আগষ্ট থেকে ভারত এবং পাকিস্তান উভয় দেশেই শুরু হবে নতুন কর্তৃত্ব।”

১৫ই আগস্টকে ভারতের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে কেন বেছে নেওয়া হল? পরে এই প্রশ্নের উত্তরে লর্ড মাউন্টব্যাটেন অবশ্য জানিয়েছিলেন, “আমি কোনও পূর্ব পরিকল্পনা থেকে দিনটি বেছে নিইনি। একটি প্রশ্নের উত্তরে এটা ছিল আমার স্বগোক্তি। আমি এটা যেন তেন প্রকারে প্রমাণ করতে মরিয়া ছিলাম যে, এই গোটা কর্মকাণ্ডের নায়ক আমি। আমাকে যখন ওরা একটা তারিখ বেছে নিতে বলেছিল, আমি জানতাম এই দিনটা খুব কাছেই। তবে তখনও আমি জানিনা ঠিক কোন দিনে এটা হতে চলেছে। ভাবছিলাম আগষ্ট কিংবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কোনও একটা দিন হবে। তখনই আমার মাথায় আসে ১৫ই আগস্টের কথা। আমার মনে হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের আত্মসমর্পণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিই হবে শ্রেষ্ঠ দিন।”

কাকতালীয় হলেও এটাই বাস্তব। এদিকে করোনা আবহে দেশের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। লালকেল্লা থেকে সপ্তম বারের জন্য জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গোটা দুনিয়ার সঙ্গে ভারতও এই মুহুর্তে করোনার মতো ভয়াল অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। রাজঘাটে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত দেশবাসীকে শুভকামনা ও অভিনন্দন। স্বাধীন ভারতে আজ আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি। স্বাধীনতাসংগ্রামী ও শহিদদের প্রণাম জানাই। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সবাইকে প্রণাম। শ্রী অরবিন্দর জন্মজয়ন্তীকে তাঁকেও স্মরণ করছি’। তিনি আরও বলেন , ‘বিশেষ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে করোনা সবাইকে আটকাচ্ছে। ‘অন্যবারের মতো এবার ছোট বাচ্চাদের সামনে দেখছি না। কোভিড যোদ্ধাদের প্রণাম জানাই। সেবা পরম ধর্ম মন্ত্রে কাজ করে চলছেন এবং মানুষের সেবা করছেন করোনা যোদ্ধারা। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই’।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা