সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: যাদের জন্য রেলের টিকিটে ফিরে এল বাংলা জেনে নিন তাঁদের সংগ্রামের কথা। কেমন ছিল তাঁদের লড়াই? কারা এই রেলের টিকিটে বাংলা ফিরিয়ে আনার কারিগর ? কি চাইছেন তাঁরা? কোন সপ্ন দেখছেন তাঁরা?

ওঁরা দীপাঞ্জন , তন্বী দাস, রাজীব চট্টোপাধ্যায়ের মতো বাংলা প্রিয় মানুষ। দীপাঞ্জন তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন সেই লড়াইয়ের গল্প। তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ৯ মাসের আন্দোলনের পর, ৭-৭টা ডেপুটেশনের পর, শ’খানেক টুইট, শ’পাঁচেক ফেসবুক পোস্টের পর, রেলের টিকিটে বাংলা এলো। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন, কলকাতা স্টেশন, পূর্ব রেল জনসংযোগ দফতর, দক্ষিণ পূর্ব রেল জনসংযোগ দপ্তর, পূর্ব রেল কমার্শিয়াল অফিস, দক্ষিণ পূর্ব রেল কমার্শিয়াল অফিস, সেই ৭টা ডেপুটেশনের আন্দোলনে বেশিরভাগেই আমার সাথে একসাথে লড়াই করা তন্বী দাস, রাজীব চট্টোপাধ্যায়, অর্নব বোস, সৌরভ শর্মা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

তবে এটাও বলব, যখন অধিকার আদায় হয় সবাই ছোটাছুটি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কৃতিত্ব দিতে ও নিতে। কিন্তু আগামীকাল আবার একটা অধিকার আদায়ের কর্মসূচী প্ল্যান করলে বেশিরভাগ মানুষকেই পাশে পাওয়া যায় না। সবাই নয় ফেসবুক ওয়াটস্যাপ বিপ্লব বা রাজনৈতিক প্রতিবাদেই ব্যস্ত, খবরে আসার মতো মিছিল বা সভায় ব্যস্ত। এটা খুবই দুঃখজনক কিন্তু সত্য। আর তার থেকেই তাই স্বতন্ত্রভাবে বাংলার ও বাঙালির অধিকার আদায়ের ফেরাম বাংলার দাবীর জন্ম। আমি এই বাঙালির আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি বাংলার দাবীর হয়ে।’

তন্বী দাস লিখেছেন , ‘শুরু করেছিলাম হাওড়া স্টেশনের ডেপুটেশন দিয়ে। আমরা টানা কর্মসূচি নিয়েছি। দীপাঞ্জনের একটা ফোন, আর বেড়িয়ে পরতাম রেলদপ্তর গুলোর উদ্দেশ্যে। অনেকক্ষেত্রে দুজন, বা তিনজনই হয়তো ডেপুটেশন দিতে পৌঁছাতে পেরেছি, কিন্তু গেছি। অনেকরকমের অভিজ্ঞতা, অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রথম যখন রেল আমাদের দাবী মেনে সম্মতি জানিয়ে চিঠি পাঠায়, খুব ভালো লাগছিল।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমাদের সবার মনে কেমন যেন একটা জেদ চেপে বসেছিল, কেন বাংলা বাদ ২০১২ সাল থেকে বাংলার বুকের ওপর দিয়ে ছুটে চলা রেলের টিকিটে? সত্যি কথা বলতে ফল কি হবে সেই মুহূর্তে আমাদের কারোর মাথায় ছিলনা। পরপর, একটার পর একটা পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটে গেছি। এই বিল্ডিং থেকে ঐ বিল্ডিং, এই দপ্তর থেকে ঐ দপ্তর। সব সহযোদ্ধারা শুধু কাজটা করে গেছি ফলের আশা না করে। এবং অবশ্যই দীপাঞ্জনের ‘Dedication’-এর উল্লেখ না করে পারছি না এইক্ষেত্রে। তাই আজ যখন খবর পেলাম টিকিটে বাংলা আসছে , একরাশ ভালো লাগায় মন ভরে গেল।’

টিকিটে বাংলার নাম ফেরানোর যোদ্ধারা এও বলছেন , ‘বাংলা অবশ্যই বলবো, এই দাবী আরো অনেক জাতীয়তা বাদী সংগঠনেরও ছিল বহুদিন ধরে। তারাও তাদের মতো করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আজ যখন বাংলার সম্মান ফিরে পাওয়ার কিঞ্চিত আশার আলো দেখা গেছে, আপামর বাঙালির সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।’

তাঁরা জানাচ্ছেন, ‘যেমন বাংলার মাটিতে কোনও পরিষেবায় ঠকলে, পশ্চিমবঙ্গ ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর সাহায্য করে, তেমনই কোনও পরিষেবায় বাংলা না পেলে, #বাংলারদাবী লড়বে। বাংলার দাবীর জন্য নিঃস্বার্থে ইংলিশ বা বাংলায় বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সংগঠনকে ইমেইলের বয়ান, চেঞ্জ পিটিশন, টুইট ক্যাম্পেইন, আরটিআই, পিআইএল করতে বা ডেপুটেশনে আসতে সময় দিতে পারলে, ইনবক্স করুন। আমার সাথে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে, ছুটির দিনটা পরিত্যাগ করে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ডেপুটেশন দিতে চাইলেও যোগাযোগ করুন।’