কলকাতা: চেন্নাইয়ের এসআরএম ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিটেক্টারের পাঁচ বছরের ডিগ্রি কোর্স, তার পর ফ্রিল্যান্স আর্কিটেক্ট হিসেবে শুরু করেছিলেন কাজ। কিন্তু পাশাপাশি চালিয়ে যান ১৮ গজে টেনিস বল ক্রিকেট। তার পর কাজ ছেড়ে যোগ দেওয়া ক্রমবেস্ট ক্রিকেট ক্লাবে। তখন তিনি ছিলেন একজন পেস-বোলার অল-রাউন্ডার। কিন্তু হাঁটুর চোটের জন্য পেস বোলার থেকে আচমকাই হয়ে যান স্পিনার। তবে তাঁর স্পিনেও ছিল আর্টিটেক্টের ছোঁয়া। ক্রমেই ক্রিকেট সার্কিটে ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ হিসেবে পরিচিত হওয়া তামিলনাড়ুর বরুণ চক্রবর্তীকে ৪ কোটি টাকায় দলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।

২০১৯ আইপিএলেও বরুণকে দলে নেওয়ার জন্য ঝাঁপিয়েছিল কলকাতা ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে গতবার রেকর্ড ৮.৪০ কোটি টাকায় প্রীতির দলে নাম লিখিয়েছিলেন এই স্পিনার। তবে রিটার্ন অফ ইনভেস্টমেন্ট কিছুই পায়নি কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। কেকেআরের বিরুদ্ধেই একটি মাত্র ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেই ম্যাচে ৩ ওভারে ৩৫ রান দিয়েছিলেন বরুণ। এরপর আঙুল ভেঙে গোটা আইপিএল থেকেই ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। তাই মরশুম শেষে বরুণের প্রতি আর আগ্রহ দেখায়নি প্রীতির দল।

স্বাভাবিকভাবেই বৃহস্পতিবার ফের কেকেআরের সামনে সুযোগ চলে আসে বরুণকে দলে নেওয়ার। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেনি পার্পল ব্রিগেড। জাতীয় দলের আনক্যাপড ক্রিকেটার হিসেবে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকায় শাহরুখের দলের নয়া সদস্য হন বরুণ চক্রবর্তী।

তামিলনাড়ুর এই মিস্ট্রি স্পিনারের ক্রিকেটে হাতেখড়ি ১৩ বছর বয়সে৷ ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত উইকেট-কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন৷ কিন্তু তার পর এজ-গ্রুপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে সুযোগ না-পেয়ে খেলা ছেড়ে পড়াশোনায় মন দেন বরুণ৷ চেন্নাইয়ের এসআরএম ইউনিভার্সিটি থেকে আর্কিটেক্টারের পাঁচ বছরের ডিগ্রি কোর্স করেন৷ তার পর ফ্রিল্যান্স আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন৷ কিন্তু পাশাপাশি চালিয়ে যান টেনিস বল ক্রিকেট৷ ১৮ গজে টেনিস বল ক্রিকেটে দ্রুত নাম করেন বরুণ৷

তার পর কাজ ছেড়ে যোগ দেন ক্রমবেস্ট ক্রিকেট ক্লাবে৷ তখন বরুণ ছিলেন একজন পেস-বোলার অল-রাউন্ডার৷ কিন্তু হাঁটুর চোটের জন্য পেস বোলার থেকে হয়ে যান স্পিনার৷ তাঁর স্পিনের বাইশ গজে বিব্রত হন ব্যাটসম্যানরা৷ ভেরিয়েশনের জন্য তাঁকে মিস্ট্রি স্পিনার বলতে শুরু করেন অনেকেই৷ চোট সারিয়ে ওঠার পর চেন্নাই লিগের ফোর্থ ডিভিশন ক্লাব জুবলি ক্রিকেট ক্লাবে সই করেন বরুণ৷ ২০১৭-১৮ মরশুমে সাত ম্যাচে ৩১টি উইকেট নিয়ে সাড়া ফেলে দেন বরুণ৷ ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে তাঁর ইকনমি রেট ৩.০৬৷ বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের হাতটাও মন্দ নয় বরুণের৷

কিন্তু তামিলনাড়ু প্রিমিয়র লিগে খেলার পর প্রচারের আলোয় আসেন ২৭ বছরের এই স্পিনারের৷ টানা দু’ বছর টিএনপিএলে সাফল্যের পর তামিলনাড়ু দলে ডাক পান বরুণ। গত মাসে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রঞ্জি অভিষেক হয় মিস্ট্রি স্পিনারের। একটি মাত্র প্রথমশ্রেণির ম্যাচ খেললেও তামিলনাড়ুর হয়ে ৯টি লিস্ট-এ ম্যাচ খেলেছেন বরুণ। চলতি বছর বিজয় হাজারে ট্রফিতে দ্বিতীয় সেরা উইকেট-টেকার হন এই তামিল স্পিনার। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ২২টি উইকেট নেন বরুণ। এখন দেখার আইপিএল অভিষেক মরশুমে হতাশ করা এই মিস্ট্রি স্পিনার কতটা সাড়া ফেলবেন সেটা সময় বলবে।