জেনে নিন মরশুমি সবজি শরীর ও স্বাস্থের জন্য কাঁকরোলে কতটা উপকারি আপনার জন্যযে কোনও মরশুমি ফল বা সবজি সবই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত উপকারি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ডাক্তাররা বলেন, প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা এবং সঙ্গে যদি একটি অথবা দুটি মরশুমি ফল বা সবজি খাদ্য তালিকায় রাখা যায় তাহলে আপনাকে অসুস্থ করে তোলার ক্ষমতা কারও নেই।
কারন বছরের বিভিন্ন ঋতুতে মরশুমি ফল এবং সবজি খেলে আমাদের দৈনিক পুষ্টি ও দেহের বিভিন্ন রোগের পথ্যের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এমন অনেক ফল ও সবজি আছে যা খেলেও উপকারিতাগুলো আমরা জানি না।

এই প্রতিবেদনে সবজির গুণ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা হল কাঁকরোল। বাঙালি বাড়িতে কাঁকরোলের সঙ্গে পরিচিতি রয়েছে। সারা গায়ে কাঁটা যুক্ত ছোট ছোট গোলাকার আকৃতির এই সবজিটি খেতে অনেকেই পছন্দ করেননা। আর যারা পছন্দ করেন তাঁদের জন্য তো বটেই এবং যারা কাঁকরোল খেতে একদমই না পছন্দ তারাও জেনে নিন কী গুণ আছে এই সবজিতে।

কাঁকরোল’এর বৈজ্ঞানিক নাম- ‘মোমরডিকা ডিওইকা’। সারা গায়ে কাঁটা থাকে বলে বাঙালির কাছে এটি কাঁকরোল নামেই বেশি সুপরিচিত। এবার আসা যাক আসল কথায়। কাঁকরোলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিজেন এবং ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’। এছাড়াও আছে দেহের জন্য উপকারি বিভিন্ন খনিজ পদার্থ। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কাঁকরোল রাখা ভালো।

ওজন কমাতে- ১০০ গ্রাম কাঁকরোলে মাত্র ১৭ ক্যালরি থাকে। তাই ওজন কমাতে অবশ্যই কাঁকরোল খেতে পারেন। হজম শক্তিও বাড়ায় কাঁকরোল। এছাড়া এটি একটি লো ক্যালারির সবজি এবং এতে ফাইবার থাকায় দীর্ঘক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে এই সবজি।

খুশখুশে কাশি কমাতে: ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ছোট বাচ্চাদেরও কাশির সমস্যা দেখা দেয়। তাই বাচ্চাদের অ্যালার্জি এবং অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে কাঁকরোল খাওয়ালে অনেক রোগের আক্রমনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় সহজেই।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন: কাঁকরোলের রয়েছে হাইপোগ্লাইসেমিক গুণাগুণ। এটি অগ্নাশয়ের বিটাসেলকে সুরক্ষিত রাখে ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ইন্সুলিন নিঃসরণ ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কম ক্যালরির ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি তারা নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এছাড়াও রক্তে শর্করার পরিমান কমাতে এবং বহুমূত্র রোগীদের রোগ সারাতে একটি অন্যতম উপকারি সবজির নাম হল কাঁকরোল। সুগারের রোগীদের প্রতিদিনের ডায়েটে কাঁকরোলের বিভিন্ন পদ থাকা আবশ্যক বলছেন ডাক্তাররা।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে- দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ক্যান্সারের প্রধান কারণ। তাজা কাঁকরোলে ভিটামিন ‘সি’ অনেক বেশি থাকে যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। দেহের ফ্রি র‌্যাডিকেলের সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এছাড়াও দৃষ্টি শক্তির উন্নতি এবং চোখের ছানি প্রতিরোধে কাঁকরোল অনেক উপকারি।

ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখতে- কাঁকরোলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘সি’ থাকায় ত্বকের যেকোনো রোগ নিরাময় করতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কাঁকরোলে রয়েছে প্রচুর হাইপোগ্লাইসেমিকের গুণাগুণ। এছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি অক্সাইড যা বাইরের রোদ ধোঁয়া, ধুলো এবং দূষণের হাত থেকে আমাদের ত্বককে রক্ষা করে।

হজমের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে- কাঁকরোলে হাই ফাইবার এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা হজমের গোলমাল এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো করতে সাহায্য করে।

তাইতো মরশুমি সবজি হিসাবে কাঁকরোল যেমন দামে কম তেমনি ঝটপট রান্নাও করে ফেলা যায়। সুতরাং নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখতে আপনার খাদ্য তালিকায় এবার থেকে প্রতিদিন থাকুক কাঁকরোল।